অজান্তেই বাড়ছে থাইরয়েড! সুস্থ থাকতে খাবারের তালিকায় আনুন জরুরি এই পরিবর্তন।

অজান্তেই বাড়ছে থাইরয়েড! সুস্থ থাকতে খাবারের তালিকায় আনুন জরুরি এই পরিবর্তন।
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

মানবদেহের শক্তির পাওয়ার হাউস বা নিয়ন্ত্রক বলা হয় থাইরয়েড গ্রন্থিকে। বিপাক প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে শরীরের হরমোন ভারসাম্য বজায় রাখা পর্যন্ত, সবই নির্ভর করে ছোট্ট এই প্রজাপতি আকৃতির গ্রন্থিটির ওপর। কিন্তু আমরা কি জানি, প্রতিদিনের কিছু খাবার আমাদের অজান্তেই এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির ক্ষতি করছে?

সাধারণত আমরা মনে করি থাকি যে থাইরয়েডের সমস্যা মানেই হয়তো বংশগত বা বড় কোনো রোগ। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের ডাইনিং টেবিলের খুবই সাধারণ কিছু খাবার এবং  আমাদের প্রাত্যহিক কিছু অভ্যাসই হতে পারে হরমোনের এই অশান্তির মূল কারণ। যে খাবারগুলোকে আমরা স্বাস্থ্যকর ভাবছি, সেগুলোই হয়তো দীর্ঘমেয়াদে আপনার থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা কমিয়ে দিচ্ছে বা গলার সমস্যার জন্ম দিচ্ছে। অজান্তেই কোন অভ্যাসগুলো বা খাবারগুলো  থাইরয়েডকে ঝুঁকিতে ফেলছে, চলুন জেনে নেয় যাক!

খাদ্যতালিকায় লুকিয়ে থাকা বিপদসমূহ:

১। ময়দার পাউরুটি ও রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট, যেমন- সাদা রুটি, পাস্তা বা অন্যান্য রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট সহজে হজম হয়, কিন্তু থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। গ্লুটেন থাকে প্রদাহ বাড়াতে সক্ষম। স্বাস্থ্যকর বিকল্প হলো পূর্ণ অন্ন বা হোলগ্রেইন পাউরুটি।

২। আলু চিপস ও ভাজাভুজি, ট্রান্স ফ্যাট ও অতিরিক্ত লবণ আয়োডিন শোষণে বাধা দেয়। নিয়মিত এই খাবার খেলে গলা ফোলা বা গোইটারের ঝুঁকি বাড়ে। বিকল্প হলো বেকড স্ন্যাক্স বা হালকা ভাজা সবজি।

৩। বাদাম, বিশেষ করে চিনাবাদামে থাকা গোইট্রোজেন থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন কমাতে পারে। পরিমিত খাওয়া নিরাপদ, কিন্তু অতিরিক্ততা এড়িয়ে চলুন।

৪। বাঁধাকপি, ব্রোকলি, ফুলকপি কাঁচা খেলে আয়োডিনের কার্যকারিতা কমে যায়। তাই সবসময় স্টিম বা হালকা রান্না করে খাওয়া উচিত।

৫। কফি থাইরয়েড ওষুধ খাওয়ার সঙ্গে কফি মিশালে ওষুধের শোষণ বাধাগ্রস্ত হয়। ওষুধের ৩০–৪৫ মিনিট পরে কফি পান করা নিরাপদ।

৬। স্ট্রেস এবং ঘুমের অভাব সরাসরি হরমোনের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করে। তাই মানসিক প্রশান্তি রাখা ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি।

​লক্ষণ: ​

থাইরয়েড গ্রন্থি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে দুই ধরনের সমস্যা লক্ষ্যনীয় হয়।

১। হাইপোথাইরয়েডিজম (হরমোন কমে যাওয়া) এবং

২। হাইপারথাইরয়েডিজম (হরমোন বেড়ে যাওয়া)।

​প্রধান লক্ষণগুলো হলো:

⇨ ​অকারণে ওজন পরিবর্তন হয়। ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া বা অনেক কমে যাওয়া।

⇨ ​ক্লান্তি ও অবসাদ বৃদ্ধি পায়। পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও সারাদিন প্রচণ্ড ক্লান্তিবোধ করা।

⇨ ​তাপমাত্রার প্রতি সংবেদনশীলতা অনুভব হয়। অতিরিক্ত শীত অনুভব করা অথবা সামান্য গরমেও অতিষ্ঠ হয়ে ওঠা।

⇨ ​মানসিক পরিবর্তন ঘটে। যেমন, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, বিষণ্ণতা, কিংবা কোনো কাজে মনোযোগ দিতে না পারা ইত্যাদি।

⇨অনেকসময় ​ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং প্রচুর পরিমাণে চুল পড়া দেখা যায়

⇨ ​গলায় অস্বস্তি অনুভূত হয়। অনেকের ক্ষেত্রে গলার সামনের অংশ ফুলে যায় (ঘ্যাগ রোগ বা Goiter) এবং কণ্ঠস্বর পরিবর্তন হতে পারে।

নিয়ন্ত্রণের জন্য পরামর্শ:

☞ হোলগ্রেইন ও সম্পূর্ণ খাবার বেছে নিন।

☞ ভাজাভুজি, অতিরিক্ত লবণ ও প্রসেসড খাবার এড়িয়ে চলুন ।

⇨ অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার, প্রসেসড ফুড এবং ধূমপান ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন।

☞ কাঁচা ক্রুসিফেরাস সবজি স্টিম বা হালকা সেদ্ধ করে খান।

☞ ওষুধের সঙ্গে কফি বা চা মিলিয়ে খাওয়া এড়ান।

☞ প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানোর অভ্যাস করুন।

দৈনন্দিন অভ্যাস ও খাবারের ছোট পরিবর্তন থাইরয়েডের ভারসাম্য বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখে। সচেতন খাদ্য ও জীবনযাত্রা শুধু থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে না, বরং সমগ্র স্বাস্থ্যও ভালো রাখে।


সম্পর্কিত নিউজ