{{ news.section.title }}
চিকেন পক্স হলে কী করবেন
চিকেন পক্স হলে বিশ্রামে থাকতে হবে, প্রচুর তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে এবং চুলকানি কমাতে অ্যান্টিহিস্টামিন ও ফোসকা শুকাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করতে হবে। এ সময় ভুলেও ফোসকা চুলকানো বা খোঁটা যাবে না, এতে ত্বকে ইনফেকশন বা দাগ হতে পারে।
চিকেন পক্স বা জলবসন্ত হলে সবার আগে রোগীকে আলাদা ঘরে বিশ্রামে রাখতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ও অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ খাওয়াতে হবে। এটি একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে নিয়ম মেনে চললে এমনিতেই সেরে যায়।
চিকেন পক্সের অস্বস্তি কমাতে এবং দ্রুত সুস্থ হতে নিচে উল্লেখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন:
ঘরোয়া যত্ন ও আরাম
চুলকানি কমাতে ক্যালামাইন লোশন: ফোসকা বা গুটিগুলোর তীব্র চুলকানি কমাতে ত্বকে ক্যালামাইন লোশন (Calamine Lotion) ব্যবহার করুন। তবে চোখের আশেপাশে এটি লাগাবেন না।
নখ ছোট রাখা: ফোসকা চুলকালে বা খুঁটলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে এবং স্থায়ী দাগ বসে যেতে পারে। তাই রোগীর নখ কেটে ছোট ও পরিষ্কার রাখুন।
নিয়মিত গোসল: শরীর ঠান্ডা রাখতে হালকা গরম বা স্বাভাবিক পানিতে অল্প সময় নিয়ে গোসল করা যাবে। পানিতে নিম পাতা ফুটিয়ে সেই পানি দিয়ে গোসল করলে ত্বকে আরাম মিলবে। গোসলের সময় সাবান ব্যবহার না করাই ভালো।
ঢিলেঢালা পোশাক: রোগীকে নরম ও আরামদায়ক সুতি কাপড় পরিধান করান এবং প্রতিদিন অন্তত দুবার পোশাক বদলে দিন।
পথ্য ও খাবার-দাবার
প্রচুর তরল খাবার: পানিশূন্যতা রোধ করতে প্রচুর পানি, ডাবের পানি, তাজা ফলের রস এবং স্যুপ খাওয়ান।
সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত মাছ, মাংস, ডিম, দুধ এবং নরম ভাত খাওয়ানো উচিত। মুখে ঘা হলে তরল ও নরম খাবার দিন।
যা বর্জন করবেন: অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত, ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত নোনতা বা টক খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন, কারণ এগুলো মুখের ভেতরের ঘায়ে জ্বালাপোড়া বাড়াতে পারে।
যা করা যাবে না
অ্যাসপিরিন বর্জন: পক্সের জ্বরের জন্য শিশুদের কখনোই অ্যাসপিরিন (Aspirin) জাতীয় ওষুধ দেবেন না, এটি মারাত্মক 'রেই সিনড্রোম' (Reye's Syndrome) ঘটাতে পারে।
আইবুপ্রোফেন এড়ানো: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen) জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করবেন না।
সতর্কতা ও আইসোলেশন
পক্সের সব ফোসকা শুকিয়ে চামড়া খসে না পড়া পর্যন্ত রোগীকে স্কুল, কলেজ বা কর্মক্ষেত্রে পাঠানো যাবে না।
গর্ভবতী নারী, নবজাতক শিশু এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের রোগীর সংস্পর্শ থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখুন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি রোগীর জ্বর ১০২ ডিগ্রির ওপরে থাকে, ফোসকাগুলো অতিরিক্ত লাল হয়ে পুঁজ জমছে বলে মনে হয়, তীব্র কাশি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, কিংবা রোগী গর্ভবতী হন, তবে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ বা সাধারণ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
বাচ্চাদের পক্স হলে করণীয় কি
শিশুর দ্রুত সুস্থতা এবং আরামের জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন। এই তথ্যগুলি সাধারণ সচেতনতার জন্য, কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসার পরামর্শ নয়। কোনো উদ্বেগ থাকলে বা জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
তীব্র চুলকানি ও ত্বকের যত্ন
নখ কাটা ও দস্তানা পরানো: শিশু যেন পক্সের ফোসকা খুঁটতে না পারে, সেজন্য নখ কেটে ছোট করে দিন। ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ঘুমানোর সময় হাতে নরম মোজা বা কাপড়ের দস্তানা (Mittens) পরিয়ে রাখতে পারেন।
ক্যালামাইন লোশন: চুলকানির তীব্রতা কমাতে ত্বকে ক্যালামাইন লোশন (Calamine Lotion) আলতো করে লাগানো যেতে পারে। তবে বাচ্চার চোখের আশেপাশে বা মুখের ভেতরে এটি ব্যবহার করবেন না।
ওটমিল বা নিম পাতার গোসল: বাচ্চাকে হালকা গরম বা স্বাভাবিক পানিতে গোসল করানো যেতে পারে। পানিতে ওটমিল গুঁড়ো অথবা নিম পাতা ব্যবহার করলে ত্বকের জ্বালাপোড়া ও চুলকানি কমতে পারে। গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে শরীর না ঘষে আলতো করে চেপে পানি শুকিয়ে নিন।
ওষুধ ব্যবহারের নিয়ম ও নিষেধাজ্ঞা
প্যারাসিটামল: বাচ্চার জ্বর বা শরীর ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে।
অ্যাসপিরিন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: পক্স আক্রান্ত শিশুকে কোনো অবস্থাতেই অ্যাসপিরিন (Aspirin) দেওয়া যাবে না। এটি লিভার ও মস্তিষ্কের মারাত্মক রোগ 'রেই সিনড্রোম' (Reye's Syndrome) তৈরি করতে পারে।
আইবুপ্রোফেন এড়িয়ে চলুন: চিকিৎসকদের মতে, পক্সের সময় আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen) খাওয়ালে ত্বকে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
অ্যান্টিহিস্টামিন: অতিরিক্ত চুলকালে চিকিৎসকের পরামর্শে মুখে খাওয়ার অ্যান্টিহিস্টামিন বা চুলকানি কমানোর সিরাপ দেওয়া যেতে পারে।
খাবার ও পানীয়
তরল খাবার: মুখের ভেতরের পক্সের কারণে বাচ্চার খেতে কষ্ট হতে পারে। তাই ডাবের পানি, স্যুপ, তাজা ফলের রস বা ঠান্ডা দুধের মতো তরল ও পুষ্টিকর খাবার বেশি দিন।
নরম ও ঠান্ডা খাবার: নরম ভাত, ওটস বা খিচুড়ি দেওয়া যেতে পারে। মুখের ভেতরের ক্ষত ঠান্ডা করতে চিনি-ছাড়া পপসিকল (আইস ললি) দেওয়া যেতে পারে। মসলাযুক্ত ও টক খাবার এড়িয়ে চলুন।
আইসোলেশন ও স্কুল বন্ধ রাখা
আক্রান্ত শিশুকে অন্য সুস্থ বাচ্চাদের থেকে আলাদা রাখুন।
পক্সের সব ফোসকা শুকিয়ে কালো পাপড়ি বা খোসা না পড়া পর্যন্ত (সাধারণত লক্ষণ প্রকাশের পর কমপক্ষে ৬ দিন) শিশুকে স্কুলে বা বাইরে খেলতে পাঠানো থেকে বিরত রাখুন।
কখন জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তারের কাছে যাবেন?
যদি শিশুর জ্বর ১০২° ফারেনহাইটের ওপরে টানা ৪ দিনের বেশি থাকে, ফোসকাগুলো অতিরিক্ত লাল ও গরম হয়ে পুঁজ জমতে শুরু করে, বাচ্চার তীব্র কাশি বা শ্বাসকষ্ট হয়, অথবা শিশু খুব বেশি দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তবে দ্রুত নিকটস্থ শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা: এই তথ্য সাধারণ জ্ঞানের জন্য, চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। যেকোনো ওষুধ ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।