তোকমা খাওয়ার ১৪টি উপকারিতা

তোকমা খাওয়ার ১৪টি উপকারিতা
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত
  • Author, জাগরণ নিউজ ডেস্ক
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

ইফতারে তোকমার শরবত খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এই বীজে রয়েছে নানা ধরনের পুষ্টিগুণ। শরবত কিংবা স্মুদিতে সহজেই ভেজানো তোকমা ব্যবহার করা যায়। ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন, ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ উপাদান এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ এই বীজটি দেখতে অনেকটা চিয়া বীজের মতো। পানিতে ভিজিয়ে রাখলে তোকমা ছোট কালো ও থকথকে আকার ধারণ করে। খাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে তোকমা ভিজিয়ে রাখতে হয় এবং সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা পর্যন্ত ভেজানো তোকমা খাওয়া নিরাপদ।

তোকমায় প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার রয়েছে। এই ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য উপশম ও প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ভূমিকা রাখে। নিয়মিত তোকমা খেলে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে।

রোজা রেখে তোকমার শরবত পান করলে শরীরের তরলের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয়। এটি শরীরকে দীর্ঘ সময় হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে, যা রোজার সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তোকমায় থাকা ফাইবার কার্ডিওভাসকুলার রোগ, কোলোরেক্টাল ক্যানসার এবং টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। ২০১৬ সালের একটি গবেষণায় তোকমার সম্ভাব্য অ্যান্টিডায়াবেটিক বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই গবেষণা অনুযায়ী, তোকমা শরীরের ওজন কমাতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

তোকমায় ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ রয়েছে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের ফ্রি র‍্যাডিক্যাল প্রতিরোধ করে, যা কোষের ক্ষতির জন্য দায়ী। ফ্রি র‍্যাডিক্যালজনিত অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কার্ডিওভাসকুলার রোগ, নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ এবং কিছু নির্দিষ্ট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

এই বীজে ব্যাকটেরিয়ারোধী বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। তোকমায় থাকা উপকারী উপাদান বিভিন্ন ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম। পাশাপাশি আর্থ্রাইটিসের প্রদাহ কমাতেও তোকমা সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

তোকমায় ভিটামিন কে, ক্যালসিয়ামের মতো খনিজ উপাদান এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয়। এতে থাকা মিউকিলেজ নামের জেলজাতীয় উপাদান পানিতে ভিজলে ফুলে ওঠে এবং নিয়মিত খেলে হজমশক্তি উন্নত হয়।

তোকমার আঁশ দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে। ফলে তৃষ্ণা কম লাগে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে থাকে। একই সঙ্গে এটি রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। রক্তপ্রবাহে চিনির নিঃসরণ ধীর করে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে তোকমা।

তোকমায় থাকা পলিফেনল কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত তোকমার শরবত পান করলে ত্বকের অকাল বার্ধক্য রোধে সাহায্য করে এবং ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

তোকমার শরবত শরীরকে শীতল রাখে। পাশাপাশি মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতেও এটি উপকারী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।


সম্পর্কিত নিউজ