{{ news.section.title }}
শরীরে জিংকের কাজ কী? ঘাটতি পূরণে যা করবেন
- Author, জাগরণ নিউজ ডেস্ক
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
খাদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান হলো জিংক। এটি শরীরের জন্য অপরিহার্য, কারণ এটি ইমিউনিটি বা প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে। জিংকের ঘাটতি থাকলে মানুষ সহজেই নিউমোনিসহ বিভিন্ন সংক্রমণ বা ইনফেকশনে আক্রান্ত হতে পারে।
জিংকের কাজ কী?
- ক্ষত নিরাময়ে সহায়ক।
- শৈশবকালীন শারীরিক বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ।
- অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের ক্ষতিকর মুক্ত মৌলের বিরুদ্ধে লড়াই করে।
- শরীরের প্রায় ৩০০ ধরনের উৎসেচক বা এনজাইমের কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজন। এই এনজাইমগুলো বিপাক, হজম, স্নায়বিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করে।
- স্বাদ ও ঘ্রাণের অনুভূতি বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- হাড় গঠনে অংশ নেয়। জিংকের অভাবে হাড়ক্ষয় হতে পারে।
- স্নায়ুবৈকল্যের ঝুঁকি কমায়।
জিংক শরীরে উৎপন্ন হয় না এবং সঞ্চিতও থাকে না, তাই প্রতিদিনের খাদ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
জিংকের ঘাটতির লক্ষণ
- স্বাদ ও ঘ্রাণের অনুভূতি হ্রাস পাওয়া
- ক্ষুধামন্দা বা অরুচি
- হতাশা ভাব
- ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়া
- ডায়রিয়া
- চুল ঝরে পড়া
অতিরিক্ত জিংক গ্রহণের বিপদ
অতিরিক্ত জিংক শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এটি কপার শোষণে বাধা দেয় এবং অ্যানিমিয়ার কারণ হতে পারে। এর পাশাপাশি দেখা দিতে পারে—
- বমি ভাব বা বমি
- অরুচি
- পেটে ব্যথা
- মাথা ব্যথা
- পাতলা পায়খানা
জিংকের ঘাটতি বেশি কাদের ক্ষেত্রে হতে পারে?
- অন্ত্রনালির রোগে আক্রান্ত যেমন ক্রোনস রোগী
- নিরামিষভোজী
- গর্ভবতী এবং দুগ্ধদানকারী মা
- শুধু বুকের দুধের ওপর নির্ভরশীল ছয় মাসের বেশি বয়সী শিশু
- ক্রনিক কিডনি বা লিভারের রোগী
- সিকল সেল অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি
- অ্যালকোহলসেবী
- অপুষ্টির শিকার ব্যক্তিরা
জিংকের উৎস
জিংকের প্রধান উৎস হলো সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য প্রাণিজ খাবার। যেমন- কাঁকড়া, ঝিনুক, চিংড়ি, মাংস, দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডিম, বাদাম, শিম, মাশরুম। শাক-সবজিতেও জিংক থাকে, তবে তা সহজে হজম হয় না, তাই নিরামিষভোজীদের অতিরিক্ত জিংক গ্রহণ করা প্রয়োজন। একজন পুরুষের দৈনিক প্রয়োজন ১১ মিলিগ্রাম, নারীটির ৮ মিলিগ্রাম। গর্ভবতী ও দুগ্ধদায়ী মায়েদের চাহিদা আরও বেশি।
প্রয়োজনে খাদ্যের পাশাপাশি অতিরিক্ত জিংক সরবরাহ করা যেতে পারে। যেমন- জিংক ট্যাবলেট, সিরাপ বা লজেন্সের মাধ্যমে দেহের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।