খুশকি দূর করার ঘরোয়া ৯ উপায়

খুশকি দূর করার ঘরোয়া ৯ উপায়
ছবির ক্যাপশান, খুশকি দূর করার ঘরোয়া ৯ উপায়, ছবি: সংগৃহীত
  • Author, জাগরণ নিউজ ডেস্ক
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

শীতে চুল পড়া ও খুশকির সমস্যায় কমবেশি সবাই ভোগেন। শীতকাল এলেই এই সমস্যা অনেকের ক্ষেত্রে বেড়ে যায়। তবে খুশকি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। মাথার ত্বক থেকে নিঃসৃত তেলজাতীয় পদার্থ সেবোরিয়া, বাইরের ধুলাবালি, হরমোনজনিত সমস্যা, অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহারসহ নানা কারণে খুশকি দেখা দিতে পারে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে মাথার ত্বকে এক ধরনের ফাঙ্গাস সক্রিয় হয়ে ওঠে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় সেবোরিক ডার্মাটাইটিস বলা হয়। শরীরের সেবাম গ্রন্থির প্রদাহের ফলেও খুশকি হয়। কখনো কখনো এটি জন্মসূত্রেও হতে পারে। খুশকির কারণে চুল পড়া ও চুলকানির সমস্যাও দেখা দেয়। তবে দামি প্রসাধনী ব্যবহার না করেও ঘরোয়া উপায়ে সহজেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

অ্যালোভেরা জেল
চুলের যত্নে অ্যালোভেরা অত্যন্ত উপকারী। এটি মাথার ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা বজায় রাখে। একই সঙ্গে ব্যাকটেরিয়ার বংশবিস্তার কমায়, ফলে খুশকির ঝুঁকি হ্রাস পায়। অ্যালোভেরায় থাকা অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান মাথার ত্বকের চুলকানি কমাতে সাহায্য করে। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করে।

নারকেল তেল
শীতকালে সপ্তাহে অন্তত একবার হালকা গরম নারকেল তেল দিয়ে মাথার ত্বক ম্যাসাজ করা উপকারী। এতে ত্বকের কোষ সুস্থ থাকে এবং চুলের রুক্ষভাব কমে। নারকেল তেলের সঙ্গে লেবুর রস, জোজবা অয়েল বা রোজমেরি অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশুদ্ধ নারকেল তেল ব্যবহার করলে সাধারণত কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন
সুষম আহার ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন চুলের সুস্থতার জন্য জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ চুলের পুষ্টি নিশ্চিত করে। খাদ্যতালিকায় ভিটামিন, মিনারেল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা প্রয়োজন। মাংস, ডিম, আমলকী, বাদাম, সবুজ শাকসবজি ও মাছ নিয়মিত খাওয়া ভালো।

লেবুর রস
লেবুর রস মাথার ত্বকের অতিরিক্ত তেল ও খুশকি দূর করতে সহায়ক। এতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড মাথার ত্বকের পিএইচ লেভেল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। লেবুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান সংক্রমণ থেকে ত্বককে রক্ষা করে। সরাসরি ব্যবহার না করে নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করাই উত্তম।

চুল পরিষ্কার রাখা
মাথার ত্বক ও চুল সবসময় পরিষ্কার রাখা জরুরি। পরিষ্কার ত্বকে আলো বাতাস চলাচল করতে পারে এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে। এতে ত্বকের কোষ সক্রিয় থাকে এবং খুশকি কমে। নিয়মিত শ্যাম্পু করা প্রয়োজন, তবে অতিরিক্ত নয়। একই চিরুনি পরিবারের সবার ব্যবহার করা উচিত নয়।

দইয়ের ব্যবহার
টক দই খুশকি দূর করতে কার্যকর। মাথায় দই লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে ত্বকের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া কমে যায়। পাশাপাশি চুল নরম ও উজ্জ্বল হয়।

তেল ও কন্ডিশনার ব্যবহার
শীতকালে বারবার চুল ধুলে প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায়। তাই সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন তেল ব্যবহার করা উচিত। নারকেল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল রুক্ষ হয় না।

পর্যাপ্ত পানি পান
পানি শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শীতকালে পানি কম পান করার ফলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়, যা খুশকির কারণ হতে পারে। প্রতিদিন অন্তত ১০ থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করা প্রয়োজন।

তাপ থেকে চুল দূরে রাখা
অতিরিক্ত তাপ চুল ও ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারে ত্বক শুষ্ক হয়ে খুশকি বাড়তে পারে। গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে চুল মুছে স্বাভাবিকভাবে শুকাতে দেওয়া ভালো। ভেজা চুল বেঁধে রাখা বা দীর্ঘ সময় ভেজা রাখা উচিত নয়।

চুল ঢেকে রাখা
বাইরের পরিবেশে থাকা অদৃশ্য ধুলাবালি মাথার ত্বকে জমে খুশকি সৃষ্টি করতে পারে। বাইরে বের হওয়ার সময় চুল ঢেকে রাখলে ত্বক পরিষ্কার থাকে এবং চুল রুক্ষ হয় না।

খুশকির সমস্যা বেশি হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। খুশকি অস্বস্তিকর হলেও সঠিক যত্ন ও নিয়মিত অভ্যাসে এটি সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শীতে মাথার ত্বকের যত্ন নিলে চুল থাকবে সুস্থ ও সুন্দর।


সম্পর্কিত নিউজ