দুধের ১০ উপকারিতা

দুধের ১০ উপকারিতা
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত
  • Author, জাগরণ নিউজ ডেস্ক
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

শিশুদের মতো অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কাছেও দুধ তেমন প্রিয় নয়। কেউ কেউ শুধু ভাতের সঙ্গে দুধ ও কলা খেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, কিন্তু আলাদা করে এক গ্লাস দুধ পান করতে রাজি হন না। অথচ দুধকে বলা হয় সুপার ফুড বা সর্বগুণসম্পন্ন খাবার। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, প্রোটিন, ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি বারো, নিয়াসিন ও রিবোফ্লাভিন। দুধের এসব পুষ্টিগুণ শরীরকে সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অ্যাসিডিটির সমস্যা, মাসিকের সময় তীব্র ব্যথা কিংবা কাজের চাপজনিত মানসিক অস্থিরতা—এমন নানা সমস্যার সমাধান দিতে পারে মাত্র এক গ্লাস দুধ। নিয়মিত দুধ পান করলে শরীরের বিভিন্ন উপকার পাওয়া সম্ভব। নিচে দুধের উল্লেখযোগ্য কিছু উপকারিতা তুলে ধরা হলো।

১. দুধে থাকা ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি দাঁত ও হাড়ের গঠন মজবুত করে। নিয়মিত দুধ পান করলে দাঁত ক্ষয়, দাঁতে পোকা, হলুদ ছোপ এবং হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি কমে।

২. প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ পান করলে অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য খাবারের চাহিদা কমে যায়। বিশেষ করে নাস্তার সময় দুধ পান করলে তা দীর্ঘ সময় পেটে থাকে এবং ক্ষুধা কম অনুভূত হয়। এতে শরীরের নানা পুষ্টির ঘাটতিও পূরণ হয়। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে দুধ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

৩. দুধে থাকা ভিটামিন ও খনিজ উপাদান মানসিক চাপ কমাতে এবং শারীরিক ফিটনেস বাড়াতে সহায়তা করে। দুধ ঘুম আনতে সাহায্য করে, ফলে মস্তিষ্ক শিথিল থাকে। রাতে কুসুম গরম দুধ পান করলে শান্ত ঘুম নিশ্চিত হয়।

৪. দুধ শরীরকে পুনরায় আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। ডিহাইড্রেশনের সমস্যা হলে এক গ্লাস দুধ পান করলে স্বস্তি পাওয়া যায়।

৫. কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে এবং দুধজাত খাবারে অ্যালার্জি না থাকলে রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধ পান উপকারী হতে পারে।

৬. শরীরে ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকলে প্রি মেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোমের ঝুঁকি বাড়ে। মাসিকের সময় পেট ব্যথা ও অ্যাসিডিটির সমস্যা হলে এক গ্লাস দুধ উপকার দিতে পারে।

৭. দুধে থাকা প্রোটিন মাংসপেশি গঠনে সহায়তা করে এবং মাংসপেশির শক্তভাব কমায়। নিয়মিত ব্যায়াম করলে প্রতিদিন এক থেকে দুই গ্লাস দুধ পান করা উপকারী। শিশুদের মাংসপেশির সঠিক বিকাশেও দুধ গুরুত্বপূর্ণ।

৮. দৈনন্দিন জীবনে নানা খাবারের কারণে অ্যাসিডিটি ও বুক জ্বালাপোড়ার সমস্যা দেখা দেয়। দুধ পাকস্থলী ঠাণ্ডা রাখতে সাহায্য করে এবং এই ধরনের অস্বস্তি কমায়।

৯. দুধে থাকা ভিটামিন ও মিনারেল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত দুধ পান করলে ত্বক নরম, কোমল ও মসৃণ থাকে।

১০. দুধ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি রক্ত পরিশোধন ও রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতেও দুধ উপকারী ভূমিকা রাখে।

চিকিৎসাবিষয়ক তথ্যসূত্র অনুযায়ী, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দুধ যুক্ত করলে শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখা অনেক সহজ হয়। সূত্র মেডিকেল নিউজ টুডে।


সম্পর্কিত নিউজ