{{ news.section.title }}
ঘরোয়া উপায়ে শিশুর জ্বর কমাবেন যেভাবে
- Author, জাগরণ নিউজ ডেস্ক
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
শীত বিদায় নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এখনো তা পুরোপুরি যাচ্ছে না। রাতের দিকে হালকা ঠান্ডা অনুভূত হলেও দিনের বেলায় বাইরে গরম আবহাওয়া বিরাজ করছে। এমন আবহাওয়ায় ছোট-বড় সবাই দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে জ্বরে। সন্তানের জ্বর নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন বাবা-মায়েরা।
শিশুর শরীর যদি অতিরিক্ত গরম থাকে এবং অস্বস্তিতে কান্নাকাটি করে, তাহলে প্রাথমিকভাবে কিছু ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে। তাপমাত্রা খুব বেশি না হলে এসব ঘরোয়া পদ্ধতি মেনে চললে অনেক ক্ষেত্রেই শিশু ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারে।
তবে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা যদি ১০২ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হয়, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জ্বর না কমে, কিংবা শরীরে র্যাশ বা এ ধরনের কোনো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ঘরোয়া উপায়ে শিশুর জ্বর কমানোর কিছু উপায় তুলে ধরা হলো।
শিশুর জ্বর হলে পর্যাপ্ত তরল খাবার খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি। জ্বরের সময় শরীর থেকে দ্রুত তরল বের হয়ে যায়, ফলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি তৈরি হয়। এ সময় শিশুকে নিয়মিত পানি, ডাবের পানি, চিকেন স্টক, ফলের জুস কিংবা শরবত খাওয়ানোর চেষ্টা করতে হবে। তবে চা বা কফি দেওয়া একেবারেই উচিত নয়, কারণ এতে পানিশূন্যতা আরও বেড়ে যেতে পারে।
জ্বর কমাতে শিশুকে কুসুম গরম পানিতে গোসল করানো যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, ঠান্ডা পানিতে নয়, কেবল কুসুম গরম পানিতেই গোসল করাতে হবে। ঠান্ডা পানিতে গোসল করালে শরীরের তাপমাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
যদি জ্বরের তাপমাত্রা বেশি থাকে, তাহলে কুসুম গরম পানিতে একটি পরিষ্কার কাপড় বা তোয়ালে ভিজিয়ে ভালোভাবে নিঙড়ে শিশুর পুরো শরীর মুছে দিতে পারেন। এতে শিশুর অস্বস্তি কিছুটা হলেও কমবে।
জ্বরের সময় শিশুকে আঁটসাঁট কাপড় না পরিয়ে ঢিলেঢালা ও আরামদায়ক পোশাক পরানো উচিত। এতে শরীরে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং অস্বস্তি কম হয়, যা জ্বর কমাতে সহায়ক।
শিশুর পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বরের সময় কোনো শিশু দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে, আবার কেউ তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক থাকে। তবে যেকোনো অবস্থায় শিশুকে পূর্ণ বিশ্রামে রাখা প্রয়োজন, কারণ সঠিক বিশ্রাম দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
শিশু অসুস্থ হলে ঘরের ফ্যান পুরোপুরি বন্ধ না রেখে হালকা গতিতে চালু রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি অবশ্যই শিশুকে মশারির ভেতরে রাখতে হবে, যাতে মশার কামড় থেকে সে নিরাপদ থাকে।
ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করার পরও যদি জ্বর না কমে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিরাপ বা ট্যাবলেট দিতে হবে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে এমন ফলমূল ও পুষ্টিকর খাবার শিশুর খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।