যেসব ফল খেতে পারবেন ডায়াবেটিস রোগীরা

যেসব ফল খেতে পারবেন ডায়াবেটিস রোগীরা
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

গ্রীষ্ম এলেই বাজারে আসে নানা রকম রসালো ফল। আম, তরমুজ, লিচু, কাঁঠাল, আনারসসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলের সমারোহ দেখা যায় সর্বত্র। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অনেক মানুষ এসব ফল খেতে দ্বিধায় থাকেন, রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। ডায়াবেটিসের রোগীরা কোন ফল খাবেন -

এ প্রশ্ন অনেকেরই। কারণ ফল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও সব ফল ডায়াবেটিস রোগীর জন্য সমান নিরাপদ নয়। তাহলে কি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সব ফলই বারণ?

ডায়াবেটিস রোগীরা যে ফল খেতে পারবেন

১। বেরিঃ স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি ও রাস্পবেরির মতো বেরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার ও ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ, যা হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এগুলো জলখাবার হিসেবে বা দই ও ওটমিলের সঙ্গে সহজেই খাওয়া যায়।

২। আপেলঃ আপেল ফাইবারসমৃদ্ধ ফল, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। খোসাসহ আপেল খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়, আর প্রোটিনের সঙ্গে খেলে এটি ভালো নাস্তা হতে পারে।

৩। নাশপাতঃ নাশপাতিতে প্রচুর ফাইবার থাকে, যা রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে দেয় না। এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করতেও সহায়ক।

৪। কমলালেবুঃ কমলালেবু ভিটামিন সি ও ফাইবারসমৃদ্ধ এবং এর গ্লাইসেমিক সূচক কম। তবে রসের বদলে পুরো ফল খাওয়াই বেশি উপকারী।

৫। চেরিঃ চেরিতে কার্বোহাইড্রেট কম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। অল্প পরিমাণে তাজা বা হিমায়িত চেরি খাওয়া যায়।

। পীচঃ পীচ ভিটামিন এ ও সি–এর ভালো উৎস এবং এর গ্লাইসেমিক সূচক মাঝারি। তাজা পীচ খাওয়া ভালো, চিনিযুক্ত টিনজাত পীচ এড়িয়ে চলা উচিত।

৭। কিউইঃ কিউইতে ফাইবার ও ভিটামিন সি বেশি, কিন্তু প্রাকৃতিক চিনি কম। তাই এটি রক্তে শর্করার ওপর খুব কম প্রভাব ফেলে।

৮। অ্যাভোকাডোঃ অ্যাভোকাডোতে স্বাস্থ্যকর চর্বি ও ফাইবার থাকে এবং এটি রক্তে শর্করা বাড়ায় না। সালাদ বা স্যান্ডউইচে সহজেই যোগ করা যায়।

। জাম্বুরাঃ জাম্বুরার গ্লাইসেমিক সূচক কম এবং এতে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে কিছু ওষুধের সঙ্গে এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার।

১০। পেয়ারাঃ পেয়ারা ফাইবার ও ভিটামিন সি–তে ভরপুর এবং এতে চিনি তুলনামূলক কম। খোসাসহ খেলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

১১। ডালিমঃ ডালিম শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস, যা প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

১২। বরইঃ বরইয়ের গ্লাইসেমিক সূচক মাঝারি এবং এতে ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। পরিমিত পরিমাণে খেলে মিষ্টির চাহিদা মেটানোর ভালো বিকল্প হতে পারে।


ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফল কেন উপকারী

। ফলের প্রাকৃতিক ফাইবার রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

। ফলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে ডায়াবেটিসজনিত বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।

। পর্যাপ্ত আঁশ থাকার কারণে হজমশক্তি ভালো থাকে এবং অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত হয়।

৪। তুলনামূলক কম ক্যালোরি ও বেশি পানি থাকার ফলে ফল ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক ভূমিকা রাখে।

ডায়াবেটিসে যেসব ফল খাওয়া যাবে না

। অতিরিক্ত পাকা কলা পাকলে এতে চিনির পরিমাণ বেড়ে যায়

। আমে স্বাভাবিকভাবেই চিনি বেশি থাকে, তাই অল্প পরিমাণে খাওয়াই ভালো

। আঙ্গুর সহজেই বেশি খেয়ে ফেলা যায় এবং এতে প্রতি পরিমাণে চিনি বেশি

। আনারস রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে

। তরমুজ ক্যালোরি কম হলেও গ্লাইসেমিক সূচক অনেক বেশি

। শুকনো ফল যেমন কিশমিশ ও খেজুর অল্প খেলেও চিনি অনেকটা বেড়ে যায়

৭। ফলের রসে ফাইবার না থাকায় রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে


সম্পর্কিত নিউজ