{{ news.section.title }}
হাম থেকে সুরক্ষায় জরুরি করণীয়, যা জানা দরকার সবার
দেশে সাম্প্রতিক সময়ে হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোগ ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা, আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। হাম একটি অতিসংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি কাশি, হাঁচি ও বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি স্থান ছেড়ে যাওয়ার পরও ভাইরাসটি বাতাস বা বিভিন্ন পৃষ্ঠে প্রায় দুই ঘণ্টা টিকে থাকতে পারে।
হামের শুরুতে সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল বা পানি পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এর কয়েক দিন পর মুখ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে লালচে র্যাশ ছড়িয়ে পড়ে। রোগটি ছোট শিশুদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। জটিলতা দেখা দিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা, কানের সংক্রমণ, এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহও হতে পারে।
হাম প্রতিরোধে প্রথম কাজ হলো টিকা নিশ্চিত করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, হাম ঠেকাতে দুই ডোজ টিকা সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা দেয়। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, দুই ডোজ টিকা হাম প্রতিরোধে প্রায় ৯৭ শতাংশ কার্যকর। বাংলাদেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে শিশুর প্রথম ডোজ ৯ মাসে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাসে দেওয়ার সূচি রয়েছে। যে শিশু এখনো দুই ডোজ সম্পন্ন করেনি, তাকে দ্রুত টিকার আওতায় আনা জরুরি।
উপসর্গ দেখা দিলে শিশুকে স্কুল, মাদ্রাসা, কোচিং বা ভিড়ের জায়গায় না পাঠিয়ে আলাদা রাখতে হবে। সিডিসি বলছে, র্যাশ ওঠার চার দিন আগে থেকে চার দিন পর পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই একই ঘরে থাকা অন্য শিশু, গর্ভবতী নারী, অপুষ্ট শিশু বা যাদের রোগপ্রতিরোধক্ষমতা কম, তাদের বাড়তি সুরক্ষায় রাখতে হবে।
চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের সময় আগে থেকে জানিয়ে যাওয়া ভালো, যাতে অপেক্ষমাণ কক্ষে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ না ছড়ায়। রোগী দ্রুত খারাপের দিকে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে, কাশি বা শ্বাসে ব্যথা হলে, পানিশূন্যতা দেখা দিলে, অসংলগ্ন আচরণ করলে, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা ঝিমুনি এলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
হামের জন্য নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। চিকিৎসা মূলত জ্বর, পানিশূন্যতা ও জটিলতা সামলানোর দিকে থাকে। ভিটামিন এ কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়, বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে। কিন্তু এটি টিকার বিকল্প নয়, আর নিজে থেকে ভিটামিন এ খাওয়ানোও ঠিক নয়।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, দেশে হামের সংক্রমণ বাড়ার পেছনে বড় কারণ হলো টিকাদানে ঘাটতি, সময়মতো দুই ডোজ সম্পন্ন না হওয়া এবং বাদ পড়ে যাওয়া শিশুদের সংখ্যা বাড়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত এলাকার আশপাশে দ্রুত টিকাদান জোরদার না করলে প্রাদুর্ভাব আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।