কিডনি ভালো আছে কি না, বুঝবেন যেভাবে

কিডনি ভালো আছে কি না, বুঝবেন যেভাবে
ছবির ক্যাপশান, কিডনি ভালো আছে কি না, বুঝবেন যেভাবে

কিডনি ভালো আছে কি না তা প্রাথমিকভাবে কিছু শারীরিক লক্ষণ এবং নিশ্চিত হওয়ার জন্য কিছু ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায়। কিডনির রোগ সাধারণত প্রাথমিক অবস্থায় কোনো বড় লক্ষণ দেখায় না। তাই শরীর কী সংকেত দিচ্ছে সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

কিডনি ভালো আছে কি না তা নিশ্চিত হতে eGFR (রক্ত পরীক্ষা) এবং uACR (প্রস্রাবের প্রোটিন পরীক্ষা) — এই দুটি সাধারণ পরীক্ষা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। এছাড়া অস্বাভাবিক প্রস্রাবের রঙ/ফেনা, হাত-পা ফোলা, ক্লান্তি, উচ্চ রক্তচাপ বা কোমর ব্যথার মতো লক্ষণগুলো কিডনি সমস্যার সংকেত দেয় [১৩, ৫]। নিয়মিত (বছরে অন্তত একবার) এই পরীক্ষাগুলো করিয়ে কিডনির স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা উচিত। 

শারীরিক লক্ষণ (যেগুলো দেখে সতর্ক হবেন)

  • প্রস্রাবের পরিবর্তন: প্রস্রাব অতিরিক্ত ফেনা বা বুদবুদযুক্ত হওয়া (প্রোটিন বের হওয়ার লক্ষণ), প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া বা রঙ লালচে হওয়া এবং রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া।

  • শরীরে ফোলাভাব: কিডনি অতিরিক্ত সোডিয়াম বা পানি বের করতে না পারলে চোখ, মুখ, হাত এবং বিশেষ করে পায়ের গোড়ালি ফুলে যায়।

  • অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা: রক্তে বর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ জমে গেলে অল্পতেই ক্লান্ত লাগা, এনার্জি না পাওয়া এবং মনোযোগ দিতে সমস্যা হতে পারে।

  • ত্বকে চুলকানি ও শুষ্কতা: কিডনি শরীরের খনিজ এবং পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে না পারলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং তীব্র চুলকানি হতে পারে।

  • ক্ষুধামন্দা ও বমি ভাব: প্রতিনিয়ত বমি বমি ভাব, বমি হওয়া বা খাবারের প্রতি অনীহা কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম বড় সংকেত।

  • মাংসপেশিতে টান: শরীরে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের ভারসাম্য নষ্ট হলে প্রায়ই মাংসপেশিতে তীব্র টান বা ক্র্যাম্প ধরে।

প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষা (নিশ্চিত হওয়ার উপায়) 

লক্ষণ না থাকলেও ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত এই পরীক্ষাগুলো করা উচিত: 

  • Serum Creatinine (সিরাম ক্রিয়েটিনিন): এটি রক্তের একটি পরীক্ষা। রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে গেলে বুঝতে হবে কিডনি ঠিকমতো ময়লা পরিষ্কার করতে পারছে না।

  • eGFR (ইজিএফআর): এই পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনি প্রতি মিনিটে কতটা রক্ত ছাঁকন করছে তার হার জানা যায়। এর মান ৬০ এর নিচে নামলে তা কিডনি সমস্যার সংকেত।

  • Urine ACR (ইউরিন এসিআর): প্রস্রাবে অ্যালবুমিন নামের প্রোটিন যাচ্ছে কি না তা এই পরীক্ষার মাধ্যমে মাপা হয়। প্রস্রাবে প্রোটিন থাকা কিডনি ড্যামেজের প্রাথমিক লক্ষণ।

  • Ultrasonogram (আলট্রাসনোগ্রাম): কিডনির আকার কেমন এবং কোনো পাথর বা সিস্ট আছে কি না তা দেখতে চিকিৎসক এটি করাতে পারেন। 

কিডনি ভালো রাখার খাদ্য

কিডনি সুস্থ রাখতে সঠিক খাবার নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। কিডনি শরীরের ছাঁকনি হিসেবে কাজ করে। তাই এমন খাবার খাওয়া উচিত যা কিডনির ওপর চাপ কমায় এবং রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। 

কিডনি ভালো রাখার সেরা খাবার

  • পানি: প্রতিদিন পর্যাপ্ত (৮-১০ গ্লাস) পানি পান করুন। এটি শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। তবে কিডনি রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মেপে পানি পান করতে হবে।

  • ফুলকপি ও বাঁধাকপি: এগুলোতে ভিটামিন সি, কে এবং ফোলেট থাকে। এ ছাড়া কম পটাশিয়াম ও সোডিয়াম থাকায় এগুলো কিডনির জন্য দারুণ নিরাপদ।

  • রসুন ও পেঁয়াজ: রসুনে থাকা অ্যালিসিন কিডনির প্রদাহ কমায়। পেঁয়াজে সোডিয়াম কম থাকে এবং এটি রক্ত তরল রাখতে সাহায্য করে।

  • আপেল ও বেরি জাতীয় ফল: আপেলে থাকা পেকটিন কিডনির ক্ষতি হওয়া কমায়। স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি বা ক্র্যানবেরিতে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা কিডনি পরিষ্কার রাখে।

  • ডিমের সাদা অংশ: এতে উচ্চমানের কিডনি-বান্ধব প্রোটিন থাকে, যাতে ফসফরাসের পরিমাণ অনেক কম থাকে।

  • মাছ: বিশেষ করে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত মাছ (যেমন রুই, কাতল বা সামুদ্রিক মাছ) কিডনির প্রদাহ কমাতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

  • অলিভ অয়েল: রান্নায় বা সালাদে অতিরিক্ত কুমারী বা এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে তা কিডনিকে সুরক্ষিত রাখে। 

যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন বা কম খাবেন 

  • অতিরিক্ত লবণ: সোডিয়াম কিডনির ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ বাড়ায় এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

  • অতিরিক্ত লাল মাংস (Red Meat): গরু বা খাসির মাংসের প্রোটিন হজম হওয়ার পর কিডনির ওপর অনেক চাপ ফেলে।

  • কোমল পানীয় বা সোডা: এগুলোতে থাকা কৃত্রিম চিনি এবং ফসফরাস কিডনির পাথরের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়।

  • প্রক্রিয়াজাত খাবার: চিপস, চানাচুর, ক্যানজাত খাবার এবং ফাস্টফুডে প্রচুর সোডিয়াম ও প্রিজারভেটিভ থাকে।


সম্পর্কিত নিউজ