{{ news.section.title }}
গরমে কোন ধরনের কফি শরীরের জন্য বেশি উপকারী
গরম পড়লেই ঠান্ডা পানীয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়ে যায়। কফিপ্রেমীদের অনেকেই এ সময় ধোঁয়া ওঠা গরম কফির বদলে বরফ মেশানো কোল্ড কফি বা কোল্ড ব্রু বেছে নেন। তবে গরমের দিনে কোন ধরনের কফি শরীরের জন্য বেশি উপকারী ঠান্ডা, নাকি গরম এ প্রশ্নের উত্তর এককথায় দেওয়া কঠিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে গরম কফি কিংবা ঠান্ডা কফি দুই ধরনের কফিই পান করা যেতে পারে, তবে সেটি হতে হবে পরিমিত মাত্রায়। কফির মূল উপাদান ক্যাফেইন, যা সাময়িকভাবে মনোযোগ বাড়াতে, ক্লান্তি কমাতে এবং শরীরকে চাঙা রাখতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করলে অস্থিরতা, ঘুমের সমস্যা, বুক ধড়ফড়, পেটের অস্বস্তি বা পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
গরমে কোল্ড কফি তাৎক্ষণিকভাবে আরামদায়ক মনে হয়। বিশেষ করে যারা বাইরে কাজ করেন বা গরমে দ্রুত সতেজ হতে চান, তাদের কাছে ঠান্ডা কফি স্বস্তিদায়ক হতে পারে। তবে বাজারের অনেক কোল্ড কফিতে অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ, ক্রিম ও ফ্লেভার মেশানো থাকে। এগুলো ক্যালরি বাড়ায় এবং শরীরকে ভারী করে তুলতে পারে। তাই গরমে কোল্ড কফি খেতে চাইলে ঘরে কম চিনি দিয়ে তৈরি কফি তুলনামূলক ভালো।
অন্যদিকে গরম কফিও একেবারে বাদ দেওয়ার মতো নয়। কিছু ক্ষেত্রে গরম পানীয় শরীরে ঘাম তৈরি করে, আর সেই ঘাম বাষ্প হয়ে উড়ে গেলে শরীর ঠান্ডা অনুভব করতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়া শুষ্ক আবহাওয়ায় বেশি কার্যকর। আর্দ্র আবহাওয়ায়, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো পরিবেশে, ঘাম সহজে শুকায় না; তাই গরম কফি সবার ক্ষেত্রে আরামদায়ক নাও হতে পারে।
যাদের অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে, তাদের জন্য কফি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা দরকার। অনেকের ক্ষেত্রে গরম কফি বা বেশি ক্যাফেইনযুক্ত কফি বুকজ্বালা বাড়াতে পারে। আবার কোল্ড ব্রু কফি তুলনামূলক কম অ্যাসিডিক হওয়ায় কিছু মানুষের জন্য সহজপাচ্য হতে পারে। তবে দুধ মেশানো কোল্ড কফি ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বা সংবেদনশীল পেটের মানুষের জন্য অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
গরমে কফি পানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পানি পান। কফিতে ক্যাফেইন থাকায় এটি হালকা মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করতে পারে। তবে পরিমিত কফি সাধারণত বড় ধরনের পানিশূন্যতা তৈরি করে না। তবুও তীব্র গরমে কফির ওপর নির্ভর না করে পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা ইলেক্ট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় গ্রহণ করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, গরমে দিনে এক থেকে দুই কাপের বেশি কফি না খাওয়াই ভালো। বিশেষ করে যারা ঘাম বেশি ঝরান, বাইরে বেশি সময় থাকেন, উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, অ্যাসিডিটি বা হৃদ্রোগের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের কফি পানের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।
সব মিলিয়ে গরমে কোল্ড কফি বা গরম কফি কোনোটিই এককভাবে সবার জন্য সেরা নয়। শরীর যেটি সহজে সহ্য করে, সেটিই বেছে নেওয়া ভালো। তবে অতিরিক্ত চিনি ছাড়া, পরিমিত পরিমাণে এবং পর্যাপ্ত পানি পানের সঙ্গে কফি গ্রহণ করাই গরমে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।