{{ news.section.title }}
ফ্যাটি লিভার কমাতে উপকারী কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি
বর্তমানে ফ্যাটি লিভার বা লিভারে চর্বি জমা একটি খুব সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। অনেকেই নিয়মিত কাজ করছেন, স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করছেন, কোনো বড় ব্যথা বা অসুস্থতাও নেই-তবু পরীক্ষায় ধরা পড়ছে লিভারে চর্বি জমেছে।
চিকিৎসকদের ভাষায়, এ রোগের বড় সমস্যা হলো এটি দীর্ঘদিন নীরবে এগোতে পারে। শুরুতে কোনো লক্ষণ না থাকলেও সময়ের সঙ্গে লিভারে প্রদাহ, ফাইব্রোসিস বা দাগ, সিরোসিস, এমনকি লিভার ফেইলিওর ও লিভার ক্যানসারের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
আগে এ রোগের সবচেয়ে পরিচিত নাম ছিল নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বা NAFLD। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর নতুন নাম ব্যবহৃত হচ্ছে-মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ বা MASLD। অর্থাৎ স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড, অস্বাভাবিক কোলেস্টেরল বা কোমরের মেদ-এসব মেটাবলিক সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত লিভারে চর্বি জমার রোগ। AASLD জানিয়েছে, NAFLD নামটি এখন MASLD নামে প্রতিস্থাপিত হচ্ছে; আর NASH-এর নতুন নাম MASH।
বিশ্বজুড়ে এই রোগের ব্যাপকতা দ্রুত বাড়ছে। AASLD-এর তথ্য অনুযায়ী, MASLD বা আগে যাকে NAFLD বলা হতো, তা বিশ্বে সবচেয়ে সাধারণ দীর্ঘমেয়াদি লিভার রোগগুলোর একটি এবং বৈশ্বিক জনসংখ্যার ৩০ শতাংশের বেশি মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারেন। বাংলাদেশেও উদ্বেগ কম নয়। কুমিল্লার গ্রামীণ প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠী নিয়ে প্রকাশিত ২০২৪ সালের একটি জনভিত্তিক গবেষণায় ৩৩ শতাংশ মানুষের মধ্যে NAFLD শনাক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে; এতে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ রক্তে শর্করা, উচ্চ কোলেস্টেরল, উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড ও বেশি কোমর মাপের সঙ্গে রোগটির সম্পর্ক পাওয়া যায়।
কেন ফ্যাটি লিভার হয়
লিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। খাবার হজমে সহায়তা, বিষাক্ত পদার্থ ভাঙা, রক্তে চর্বি ও শর্করার ভারসাম্য রাখা-এসব কাজের সঙ্গে লিভার জড়িত। কিন্তু যখন শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি, চিনি, পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট, স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ে, তখন লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমতে শুরু করতে পারে।
NIDDK-এর তথ্য অনুযায়ী, NAFLD সাধারণত নীরব রোগ; স্থূলতা, মেটাবলিক সিনড্রোম ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস থাকলে এর ঝুঁকি বেশি। রোগী অনেক সময় কোনো লক্ষণ অনুভব করেন না, তবে কারও কারও ক্ষেত্রে ক্লান্তি বা পেটের ডান ওপর পাশে অস্বস্তি থাকতে পারে।
ঝুঁকিপূর্ণদের মধ্যে রয়েছেন-যাদের ওজন বেশি, পেটের মেদ বেশি, টাইপ-২ ডায়াবেটিস আছে, উচ্চ রক্তচাপ আছে, রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি, HDL বা ভালো কোলেস্টেরল কম, ঘুম কম, শারীরিক পরিশ্রম কম, বেশি কোমল পানীয় বা মিষ্টি খাবার খান এবং পরিবারে ডায়াবেটিস বা লিভারের রোগের ইতিহাস আছে।
সব ফ্যাটি লিভার কি বিপজ্জনক?
সব ফ্যাটি লিভার একই রকম নয়। অনেকের ক্ষেত্রে শুধু লিভারে চর্বি জমে, কিন্তু প্রদাহ বা ক্ষতি বেশি হয় না। তবে কারও ক্ষেত্রে এটি MASH বা আগে যাকে NASH বলা হতো-সে পর্যায়ে যেতে পারে। এই পর্যায়ে চর্বির পাশাপাশি লিভারে প্রদাহ ও কোষের ক্ষতি শুরু হয়। NIDDK জানায়, NASH/MASH হলে লিভারে ফাইব্রোসিস বা দাগ তৈরি হতে পারে, যা ধীরে ধীরে সিরোসিসে রূপ নিতে পারে।
বাংলাদেশ হেপাটোলজি সোসাইটির গাইডেন্সেও বলা হয়েছে, সাধারণ স্টিয়াটোসিস তুলনামূলক কম ঝুঁকির হলেও NASH/MASH থাকলে ফাইব্রোসিস, সিরোসিস ও লিভার-সম্পর্কিত জটিলতার ঝুঁকি বেশি। একই গাইডেন্সে স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, ডিসলিপিডেমিয়া, উচ্চ রক্তচাপ, মেটাবলিক সিনড্রোম, ফ্রুক্টোজসমৃদ্ধ কোমল পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অলস জীবনযাপনকে বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কখন পরীক্ষা করবেন
ফ্যাটি লিভার অনেক সময় অন্য কারণে করা আল্ট্রাসনোগ্রাফি বা লিভার ফাংশন টেস্টে ধরা পড়ে। তবে শুধু ALT বা AST স্বাভাবিক থাকলেই ঝুঁকি নেই-এমন ভাবা ঠিক নয়। চিকিৎসকেরা সাধারণত রোগীর ইতিহাস, শারীরিক পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, FibroScan বা elastography এবং প্রয়োজন হলে বিশেষ পরীক্ষা বা বায়োপসির মাধ্যমে রোগের মাত্রা বোঝেন। NIDDK বলছে, রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকেরা মেডিকেল হিস্ট্রি, শারীরিক পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা, ইমেজিং এবং কিছু ক্ষেত্রে বায়োপসি ব্যবহার করতে পারেন।
যাদের ওজন বেশি, টাইপ-২ ডায়াবেটিস আছে, পেটের মেদ বেশি, কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি, উচ্চ রক্তচাপ আছে-তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি। EASL–EASD–EASO ২০২৪ গাইডলাইনে বলা হয়েছে, মেটাবলিক ঝুঁকি, অস্বাভাবিক লিভার এনজাইম বা ইমেজিংয়ে লিভারে চর্বি পাওয়া গেলে, বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবেটিস বা স্থূলতা থাকলে, ফাইব্রোসিস শনাক্তে নন-ইনভেসিভ টেস্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া উচিত।
ওজন কমানোই সবচেয়ে বড় চিকিৎসা
প্রাথমিক পর্যায়ের ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হলো ধীরে ধীরে ওজন কমানো। তবে দ্রুত ওজন কমানো বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা বিপজ্জনক হতে পারে। এতে পুষ্টিহীনতা, গলস্টোন, দুর্বলতা ও লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।
EASL–EASD–EASO ২০২৪ গাইডলাইনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ওজন থাকা MASLD রোগীদের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ ওজন কমালে লিভারের চর্বি কমতে পারে, ৭–১০ শতাংশ কমালে প্রদাহের উন্নতি হতে পারে এবং ১০ শতাংশ বা তার বেশি ওজন কমালে ফাইব্রোসিসের উন্নতি হতে পারে। American Gastroenterological Association-ও বলছে, জীবনযাত্রা পরিবর্তনের মাধ্যমে ওজন কমানো NAFLD রোগীদের জন্য প্রথম সারির চিকিৎসা; NASH রোগীদের ক্ষেত্রে ৫, ৭ ও ১০ শতাংশ ওজন কমানোর সঙ্গে যথাক্রমে steatosis, NASH resolution ও fibrosis stability/regression-এর সম্পর্ক পাওয়া যায়।
খাদ্যাভ্যাসে সবচেয়ে জরুরি পরিবর্তন
ফ্যাটি লিভারের খাবার মানেই শুধু তেল বন্ধ বা ভাত বন্ধ নয়। বরং মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত-কম ক্যালরি, বেশি আঁশ, ভালো প্রোটিন, কম চিনি, কম প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট।
মেডিটেরেনিয়ান ধাঁচের খাদ্যাভ্যাসকে বিশেষজ্ঞরা ফ্যাটি লিভারের জন্য উপকারী মনে করেন। এতে থাকে শাকসবজি, ফল, ডাল, ছোলা, মসুর, বাদাম, বীজ, মাছ, অলিভ অয়েল বা স্বাস্থ্যকর তেল, পূর্ণ শস্য ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবার। Mayo Clinic বলছে, Mediterranean diet ওজন কমাতে সাহায্য করার পাশাপাশি MASLD রোগীদের লিভারের চর্বি ও প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
যেসব খাবার বেশি রাখা যেতে পারে-শাকসবজি, লাউ, করলা, ঢেঁড়স, পালং শাক, ব্রকলি, গাজর, শসা, টমেটো, আপেল, পেয়ারা, কমলা, ডাল, ছোলা, মসুর, ডিমের সাদা অংশ, মাছ, বাদাম, তিসি বীজ, চিয়া সিড, আখরোট ও পর্যাপ্ত পানি। ভাত খাওয়া যাবে, তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং সাদা ভাতের সঙ্গে বেশি শাকসবজি ও প্রোটিন যোগ করে খাওয়া ভালো।
অন্যদিকে কমাতে হবে-কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত জুস, অতিরিক্ত চিনি, কেক, বিস্কুট, মিষ্টি, আইসক্রিম, ফাস্টফুড, ডিপ ফ্রাই খাবার, প্রসেসড মাংস, অতিরিক্ত লাল মাংস, অতিরিক্ত ঘি/মাখন, ট্রান্স ফ্যাট এবং অতিরিক্ত সাদা চাল-আটা-নুডলস। NIDDK বলছে, NAFLD রোগীদের ক্ষেত্রে saturated fat ও trans fat-এর বদলে unsaturated fat, low-glycemic খাবার এবং ফল-সবজি-হোল গ্রেইন বাড়ানো যেতে পারে; একই সঙ্গে ফ্রুক্টোজসমৃদ্ধ কোমল পানীয়, স্পোর্টস ড্রিংক, মিষ্টি চা ও জুস এড়াতে বলা হয়েছে।
প্রতিদিন ব্যায়াম: শুধু ওজন নয়, লিভারের জন্যও জরুরি
ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে অলস জীবনযাপনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দিনে দীর্ঘ সময় বসে থাকা, হাঁটাচলা কম করা, রাত জাগা, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম-এসব অভ্যাস ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়াতে পারে।
EASL–EASD–EASO গাইডলাইন অনুযায়ী, MASLD রোগীদের লিভারের চর্বি কমাতে সপ্তাহে ১৫০ মিনিটের বেশি মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম বা ৭৫ মিনিটের বেশি vigorous exercise করার পরামর্শ দেওয়া হয়। বাস্তবে এটি হতে পারে-সপ্তাহে পাঁচ দিন ৩০ মিনিট brisk walking, সাইকেল চালানো, সাঁতার, হালকা দৌড়, সিঁড়ি ব্যবহার, ঘরের কাজ বা resistance training। শুধু হাঁটা নয়, সপ্তাহে ২–৩ দিন পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়ামও উপকারী হতে পারে।
কফি, ওমেগা-৩ ও ভিটামিন: কী জানা জরুরি
অনেক গবেষণায় কফির সঙ্গে লিভারের সুরক্ষার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। EASL গাইডলাইনে বলা হয়েছে, observational study-তে কফি পানকারীদের মধ্যে MASLD ও fibrosis-এর ঝুঁকি তুলনামূলক কম দেখা গেছে; তবে নিশ্চিত সিদ্ধান্তের জন্য আরও ভালো মানের গবেষণা দরকার। তাই কফি খেলে তা চিনি, ক্রিম ও অতিরিক্ত দুধ ছাড়া বা কম চিনি দিয়ে খাওয়াই ভালো। যাদের ঘুমের সমস্যা, অ্যাসিডিটি, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, গর্ভাবস্থা বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সহায়ক হতে পারে। সামুদ্রিক মাছ, আখরোট, তিসি বীজ ও চিয়া সিড থেকে এটি পাওয়া যায়। তবে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্টকে ফ্যাটি লিভারের মূল চিকিৎসা মনে করা ঠিক নয়; বিশেষ করে রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট নেওয়া উচিত নয়।
ভিটামিন ই নিয়েও গবেষণা আছে। কিছু নির্দিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে এটি লিভারের প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে আলোচনা আছে, তবে এটি সবার জন্য নয়। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বা অন্য ওষুধ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভিটামিন ই বা কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করা উচিত নয়।
ভেষজ ও ‘লিভার ডিটক্স’ নিয়ে সতর্কতা
হলুদ, আদা, রসুন, গ্রিন টি-এসব খাবারের কিছু স্বাস্থ্যগুণ থাকতে পারে। কিন্তু এগুলোকে ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসার বিকল্প ভাবা বিপজ্জনক। বাজারে অনেক “লিভার ডিটক্স”, “লিভার ক্লিনজ”, “ফ্যাট গলানো” বা দ্রুত ওজন কমানোর পণ্য বিক্রি হয়, যেগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয় এবং কিছু ক্ষেত্রে লিভারের ক্ষতিও করতে পারে।
EASL গাইডলাইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, MASLD রোগীদের ক্ষেত্রে nutraceuticals বা ভেষজ/সাপ্লিমেন্টজাত পণ্য লিভারের ক্ষতি কমাতে কার্যকর ও নিরাপদ-এমন পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই, তাই এগুলো সুপারিশ করা যায় না। MedlinePlus-ও সতর্ক করেছে, কোনো dietary supplement, vitamin বা complementary medicine ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত, কারণ কিছু herbal remedy লিভারের ক্ষতি করতে পারে।
ওষুধ আছে কি?
সাধারণ ফ্যাটি লিভারের সব রোগীর জন্য এখনো কোনো “ম্যাজিক ওষুধ” নেই। জীবনযাত্রা পরিবর্তনই প্রধান চিকিৎসা। তবে উন্নত পর্যায়ের MASH বা moderate-to-advanced fibrosis থাকা নির্দিষ্ট রোগীদের জন্য কিছু দেশে নতুন ওষুধ অনুমোদন পেয়েছে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের FDA Rezdiffra বা resmetirom অনুমোদন দেয় noncirrhotic NASH/MASH রোগীদের জন্য, যাদের moderate-to-advanced fibrosis আছে; এটি diet ও exercise-এর সঙ্গে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। আবার ২০২৫ সালে FDA Wegovy বা semaglutide injection-ও MASH with moderate-to-advanced fibrosis চিকিৎসার জন্য accelerated approval দিয়েছে।
তবে এসব ওষুধ সব রোগীর জন্য নয়, সব দেশে সহজলভ্যও নয়, এবং চিকিৎসকের মূল্যায়ন ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। প্রাথমিক বা সাধারণ ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে এখনো সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো-ওজন নিয়ন্ত্রণ, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, ব্যায়াম, ডায়াবেটিস-কোলেস্টেরল-রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং অ্যালকোহল বা লিভারের ক্ষতিকর জিনিস এড়িয়ে চলা।
ফ্যাটি লিভারকে হালকা সমস্যা মনে করে অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ এটি শুধু লিভারের রোগ নয়; এর সঙ্গে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি সমস্যা ও মেটাবলিক সিনড্রোমের সম্পর্ক রয়েছে। আবার ভালো দিক হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে জীবনযাত্রা পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই লিভারের চর্বি কমানো এবং রোগের অগ্রগতি থামানো সম্ভব।
চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো-ওজন, কোমরের মাপ, রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরল ও লিভার ফাংশন নিয়মিত পরীক্ষা করুন। খাবারে চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান, প্রতিদিন হাঁটুন, পর্যাপ্ত ঘুমান, ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধ খাবেন না। নীরবে শুরু হওয়া এই রোগকে নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন।