{{ news.section.title }}
এবার বাংলাতেও পদ্মফুল ফুটতে চলেছে: মোদী
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটের আগে সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে নির্বাচনি প্রচার। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় জোর তৎপরতা চালিয়েছে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী থেকে শুরু করে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী-উভয় পক্ষের শীর্ষ নেতারাই নিজ নিজ এলাকায় প্রচারে সক্রিয় ছিলেন। একই সঙ্গে প্রচারে যোগ দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, অভিষেক ব্যানার্জী এবং বিনোদন জগতের পরিচিত কয়েকজন মুখও।
নির্বাচনের এই পর্বে রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। এর আগে প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের ফল প্রকাশ করা হবে ৪ মে।
প্রচারের শেষ দিনে ব্যারাকপুরে এক সমাবেশে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিজেপির জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সাড়া দেখে তার মনে হচ্ছে, ফল ঘোষণার পর আবারও এই রাজ্যে আসতে হবে। বিজেপির ভাষ্য অনুযায়ী, রাজ্যে “পদ্মফুল ফোটার” পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং দ্বিতীয় দফার ভোটে তারই প্রতিফলন দেখা যাবে।
মোদী তার বক্তব্যে আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সঙ্গে তার এই যোগাযোগ কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এক ধরনের মানসিক ও আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা। তিনি দাবি করেন, এই নির্বাচন শুধু একটি সরকার গঠনের প্রশ্ন নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ, নিরাপত্তা এবং গোটা পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার সঙ্গেও এটি জড়িত। বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে “ডাবল ইঞ্জিন” সরকার রাজ্যের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তৃণমূল কংগ্রেসও ছিল আক্রমণের কেন্দ্রে। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের কাছে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট কোনো রূপরেখা নেই। বিজেপির প্রচারে “উন্নয়ন”, “নিরাপত্তা”, “নারী সুরক্ষা” এবং “শাসন পরিবর্তন” ছিল মূল স্লোগানগুলোর মধ্যে। অন্যদিকে তৃণমূলও শেষ দিন পর্যন্ত বিজেপিকে “বহিরাগত রাজনীতি” ও “কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ” ইস্যুতে আক্রমণ করেছে।
শেষ মুহূর্তের প্রচারে তারকাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূল ও বিজেপি-দুই শিবিরই জনমত প্রভাবিত করতে জনপ্রিয় মুখদের মাঠে নামিয়েছে। তৃণমূলের পক্ষে অভিষেক ব্যানার্জী ছাড়াও টলিউডের কয়েকজন পরিচিত মুখ প্রচারে অংশ নেন। বিজেপিও তাদের প্রার্থীদের সমর্থনে একাধিক শীর্ষ নেতাকে মাঠে নামায়। এতে নির্বাচনের শেষ দিকের প্রচার এক ধরনের উচ্চমাত্রার রাজনৈতিক প্রদর্শনীতে রূপ নেয়।
এই দফার ভোটে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া ও পূর্ব বর্ধমানসহ রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে ভোটগ্রহণ হবে। ফলে নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দল-উভয় পক্ষই এই পর্বকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে শহর, উপশহর ও ঘনবসতিপূর্ণ রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টিও নির্বাচনের শেষ সময়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বলছে, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে ভোটের আগমুহূর্তেও একেবারে উত্তেজনাহীন থাকেনি মাঠের পরিস্থিতি। বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সংঘর্ষ, গাড়িতে হামলা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। যদিও প্রতিটি অভিযোগ স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সব ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি, তবু প্রচারের শেষ দিন পর্যন্ত উত্তেজনার আবহ পুরোপুরি কাটেনি-এমন চিত্রই সামনে এসেছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোর রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভোটের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও দাবি করেছেন যে ভোট-পরবর্তী সময়েও কিছুদিন রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। এর মধ্য দিয়ে বিজেপি একদিকে ভোটারদের নিরাপত্তা বার্তা দিতে চাইছে, অন্যদিকে তৃণমূল এই অবস্থানকে কেন্দ্রের অতিরিক্ত চাপ হিসেবে তুলে ধরছে। ফলে নির্বাচনের শেষ দফা শুধু ভোটের লড়াই নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক আস্থার লড়াই হিসেবেও সামনে এসেছে।