{{ news.section.title }}
গোমাতা স্বঘোষিত রাষ্ট্রমাতা, নতুন করে ঘোষণার কিছু নেই: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী
ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গরুকে ‘স্বঘোষিত রাষ্ট্রমাতা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এ বিষয়ে নতুন করে কোনো সরকারি ঘোষণার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে গরু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বা বিতর্কিত পোস্ট না করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১ জুন) উত্তরপ্রদেশের বিজনোরে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথ এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “গোমাতা হলো স্বঘোষিত রাষ্ট্রমাতা। এ বিষয়ে আলাদা কোনো ঘোষণা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।” তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে-এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে তিনি বিশেষভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের সতর্ক করেন। তার মতে, গরুকে কেন্দ্র করে উসকানিমূলক পোস্ট বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলে তা সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। তাই এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
ভারতে গরু দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয়, সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি বড় অংশ গরুকে পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করে। এ কারণে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে গরু জবাইয়ের ওপর কঠোর আইন ও বিধিনিষেধ রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা ও আসামের মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে গরু সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গরু সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যু ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। গরু জবাই, গরু পরিবহন, পশু বাণিজ্য এবং গরু সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে উত্তেজনা, প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক বিতর্কের ঘটনাও ঘটেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে গরু সংরক্ষণ।
অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন এবং কিছু নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা দাবি করেন, গরু সংক্রান্ত আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনেক সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, খামারি ও পশু ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হন। তাদের মতে, আইন প্রয়োগের নামে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কঠোরতা বা বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগও উঠে এসেছে। তবে বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর দাবি, গরু সংরক্ষণ ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোরবানির ঈদের আগে যোগী আদিত্যনাথের এই মন্তব্য শুধু ধর্মীয় বিষয় নয়, বরং এর রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। কারণ উত্তরপ্রদেশ ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতিতেও এর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। ফলে গরু সংক্রান্ত যেকোনো মন্তব্য দ্রুত রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।
যোগী আদিত্যনাথের সাম্প্রতিক বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার সমর্থকরা একে ভারতীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতি সমর্থন হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশ মনে করছেন, এ ধরনের মন্তব্য ধর্মীয় মেরুকরণকে আরও উসকে দিতে পারে।