ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চাই কেন?
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
ভৌগোলিক ভাবে গ্রিনল্যান্ড উত্তর আমেরিকার দেশ হলেও রাজনৈতিক ভাবে গ্রিনল্যান্ড ইউরোপের দেশ এবং ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। তাহলে কেন পাগলাটে ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিচ্ছে। চলুন জেনে আসি আমেরিকার গ্রিনল্যান্ড দখলের উদ্দেশ্য কি।
২০১৬ ও ২০২০ সালের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে ট্রাম্প "মেইক আমেরিকা গ্রেইট এগেইন "স্লোগান দিয়ে আমেরিকানদের এই বার্তা দিয়ে ছিলো যে, আমেরিকা কে পূনরায় মহান করে তুলতে হবে যাতে করে বিশ্বের বুকে সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠাতা পাই। সেই সাথে দেশের অর্থনীতি, চাকরি,নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতেতে একটা কথা প্রচলন আছে, আমেরিকার সরকার পাল্টায় কিন্তু নীতি পাল্টায় না। পুঁজিবাদ ও গনতন্ত্রের দোহাই দিয়ে আমেরিকা বিভিন্ন দেশে আগ্রাসন চালিয়ে আসছে।
আমেরিকা কখনো চাই না তাদের কে পিছনে ফেলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক খাতে কেউ এগিয়ে যাক। কিন্তু চীন আমেরিকার সেই মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের জিডিপি, অর্থনীতি সামরিক খাত এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠছে যে এশিয়া মহাদেশ ছাড়িয়ে আমেরিকার নাকের ডগায় গ্রিনল্যান্ডের বিমান বন্দর, খনিজ সম্পদ উত্তোলনসহ অনেক অবকাঠামো নির্মাণে অবদান রাখতে চাই। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় চীনের ক্ষমতা হ্রাস করতে গ্রিনল্যান্ড দখলে করতে মরিয়া ট্রাম্প।
তাছাড়া আরো বিশেষ কিছু কারণ রয়েছে যেমন, গ্রিনল্যান্ড বরফে ঢাকা হলেও প্রকৃত পক্ষে প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ। গ্রিনল্যান্ডে রয়েছে বিপুল পরিমাণে তেল, গ্যাস, বিরল খনিজ । জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দিনদিন বরফ গলে সম্পদ উত্তোলনের পথ সুগম করছে সেই সাথে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সামদ্রিক রোড তৈরি হচ্ছে। তাই গ্রিনল্যান্ড দখলের পিছনে আমেরিকার রয়েছে রাজনৈতক, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ। রাশিয়ার হাত ধরে এই অঞ্চলে দিনদিন চীনের উপস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র হুমকি হিসেবে দেখছে। চীন ও রাশিয়ার বলয় থেকে গ্রিনল্যান্ড কে মুক্ত করে ট্রাম্প সম্পদ আত্মসাৎ করে আমেরিকার স্বার্থে কাজে লাগাতে চায়|
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান
মন্তব্যসমূহ
এই সংবাদের জন্য এখনো কোনো মন্তব্য নেই।