{{ news.section.title }}
চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কতো জন মারা গেলো ইরানে
ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান টানা কয়েকদিন ধরে চলতে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের উদ্ধৃতি দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, হামলা শুরুর পর থেকে ইরানে নিহতের সংখ্যা ১,০৪৫ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে সংঘাতের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েলসহ একাধিক দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে।
নিহত-আহত নিয়ে কী জানা যাচ্ছে
ইরানে নিহতের সংখ্যা নিয়ে যে ১,০৪৫–এর তথ্য প্রচারিত হচ্ছে, তা মূলত ইরানের রাষ্ট্রীয় সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এসেছে। তবে মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা/অধিকারকর্মীদের বরাতে আরও বড় মানবিক ক্ষতির আশঙ্কাও উঠে এসেছে-টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম কয়েকদিনে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে এবং আহত কয়েক হাজার; একই সঙ্গে কিছু মৃত্যুর হিসাব “যাচাইাধীন” বলেও উল্লেখ আছে। এ কারণে সামগ্রিক হতাহতের সংখ্যা নিয়ে তথ্যভেদ থাকলেও-দুটি দিক স্পষ্ট: হামলা তীব্র, এবং এর মানবিক প্রভাব দ্রুত বাড়ছে।
হামলার বিস্তার: ইরান থেকে লেবানন, আর পাল্টা জবাবে ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশে হামলা
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ইরানের বিভিন্ন সামরিক/নিরাপত্তা স্থাপনা লক্ষ্য করে চলছে-কিছু প্রতিবেদনে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামো ও আইআরজিসি–সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে উল্লেখ আছে। একই সময়ে ইসরায়েল লেবাননেও আঘাত হানছে-এতে সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে এবং আঞ্চলিক সংঘাত একাধিক ফ্রন্টে গড়াচ্ছে।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধ ষষ্ঠ দিনে গড়ানোর মধ্যে ইরান ইসরায়েলে নতুন করে বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে-যা ইসরায়েলে সাইরেন, আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যাওয়া এবং জনজীবনে অচলাবস্থা তৈরি করেছে।
তুরস্কে ক্ষেপণাস্ত্র-ন্যাটো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা “ইন্টারসেপ্ট” দাবি
আপনার দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিল রেখে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আরও একটি বড় ঘটনা এসেছে-তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে বলা হয়, ন্যাটো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রকে তুরস্কের আকাশসীমায় ঢোকার আগেই ধ্বংস করেছে। আল জাজিরা ও রয়টার্স-দুই মাধ্যমেই এই তথ্য এসেছে, যা সংঘাতকে ন্যাটো–মিত্রদেশ পর্যন্ত টেনে নেওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
কেন এই যুদ্ধ আরও “বিপজ্জনক”: ৩টি বড় কারণ
১) বহু দেশের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ঝুঁকিতে
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমিত নেই-গালফ অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি, মিত্রদেশগুলোর প্রতিরক্ষা, জ্বালানি অবকাঠামো-সবকিছুই এখন উচ্চ ঝুঁকিতে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক-নৌ তৎপরতা এবং সমুদ্রপথে বড় সংঘাতের ইঙ্গিতও উঠে এসেছে।
২) হরমুজ প্রণালী ও তেল পরিবহন কার্যত অচল-অর্থনীতি
রয়টার্স বলছে, এই সংঘাতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত/অচল হয়ে পড়েছে, যা তেলবাজারে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে এবং বৈশ্বিক বাজারে ধাক্কা দিচ্ছে। এর মানে, যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে সবচেয়ে বড় “ডোমিনো ইফেক্ট” হচ্ছে জ্বালানি ও সরবরাহ চেইন-বিশেষ করে এশিয়ার আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোতে।
৩) বেসামরিক অবকাঠামো ও মানবিক ঝুঁকি-আইনগত/নৈতিক চাপ
টাইম–এর প্রতিবেদনে হাসপাতাল, আবাসিক এলাকা ইত্যাদি নিয়ে উদ্বেগ, এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ আছে। সংঘাত দীর্ঘ হলে বাস্তুচ্যুতি, চিকিৎসা সংকট, বিদ্যুৎ/ইন্টারনেট/জরুরি সেবা ব্যাহত হওয়া-এসব ঝুঁকি দ্রুত বাড়ে। একই সঙ্গে প্রতিশোধমূলক হামলা বাড়লে বেসামরিক হতাহতের চক্রও বিস্তৃত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের রাজনীতি: যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগ আটকাল
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়-ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ বাড়ে। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে এমন একটি উদ্যোগ ছিল যা যুদ্ধ পরিচালনায় কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রশ্ন তুলত-কিন্তু তা রিপাবলিকানদের বাধায় এগোয়নি। এর ফলে প্রেসিডেন্টের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক জায়গা তুলনামূলকভাবে শক্ত থাকে-যুদ্ধের গতি কমার সম্ভাবনাও দুর্বল হয়।