মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপতিত হলে পাইলটকে বাঁচাতে ৫ ভাষায় যা লেখা থাকে পোশাকে?

মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপতিত হলে পাইলটকে বাঁচাতে ৫ ভাষায় যা লেখা থাকে পোশাকে?
ছবির ক্যাপশান, ভূপাতিত সেই নারী পাইলট ও ব্লাড চিট | ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতে সম্প্রতি ভূপাতিত হওয়া F-15 Eagle পাইলটদের কাছে বিশেষ একটি জীবন রক্ষাকারী বার্তা বা ‘ব্লাড চিট’ পাওয়া গেছে, যা তাদের জ্যাকেটের ভেতরে সতর্কতার সঙ্গে সেলাই করা থাকে। এই চিট মূলত একটি যুদ্ধক্ষেত্রে বেঁচে থাকার কৌশল, যেখানে ইংরেজি ছাড়াও স্থানীয় ভাষায় লেখা থাকে বার্তা, যা স্থানীয়দের কাছে পাইলটের নিরাপত্তা ও সহায়তা নিশ্চিত করে।

কুয়েতে সম্প্রতি ভূপাতিত হওয়া আমেরিকান পাইলটদের কাছে একটি বিশেষ জীবন রক্ষাকারী বার্তা বা 'ব্লাড চিট' (Blood Chit) পাওয়া গেছে, যা তাদের জ্যাকেটের ভেতরে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সেলাই করা থাকে। 

এই কাপড়টি মূলত একটি জীবন বীমার মতো কাজ করে, যেখানে ইংরেজি ছাড়াও আরবি, তুর্কি, ফারসি এবং কুর্দি ভাষায় একটি বিশেষ বার্তা লেখা থাকে। 

বার্তাটিতে বলা হয় -  "আমি একজন আমেরিকান এবং আমি আপনাদের ভাষা জানি না। আমি আপনাদের কোনো ক্ষতি করব না। দয়া করে আমাকে খাবার, পানি, আশ্রয়, পোশাক এবং একজন ডাক্তার দিন। আমাকে মার্কিন বা মিত্র বাহিনীর কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করুন। 

আমার নাম এবং এই নম্বরটি মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিলে আপনাকে পুরস্কৃত করা হবে।" এই বার্তার মূল উদ্দেশ্য হলো, পাইলট যদি কোনো শত্রুভাবাপন্ন বা অচেনা এলাকায় আটকা পড়েন, তবে স্থানীয় জনগণের সাহায্য নিয়ে যেন তিনি নিরাপদে ফিরতে পারেন। এর বিনিময়ে মার্কিন সরকার ওই সাহায্যকারী ব্যক্তিকে বড় অংকের আর্থিক পুরস্কার বা অন্যান্য সুযোগ সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেয়।

ঐতিহাসিকভাবে, এই ব্লাড চিটের ব্যবহার অত্যন্ত পুরনো। ধারণা করা হয়, ১৭৯৩ সালে ফরাসি বেলুন চালক জঁ পিয়েরে ব্লানচার্ড যখন আমেরিকায় প্রথমবার নামেন, তখন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন তাকে একই ধরনের একটি পরিচয়পত্র দিয়েছিলেন। 

পরবর্তীতে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং বিশেষ করে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় এটি মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়। এই মেসেজটি সাধারণত সিল্ক বা অত্যন্ত টেকসই কাপড়ে তৈরি করা হয়, যাতে এটি পানিতে ভিজলে বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় নষ্ট না হয়। 

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে পাইলটদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এখানে স্থানীয় প্রধান ভাষাগুলো যুক্ত করা হয়, যাতে ভাষা না জানলেও একজন সাধারণ গ্রামবাসী সহজেই বুঝতে পারেন যে এই পাইলটকে সাহায্য করলে তিনি পুরস্কৃত হবেন। 

আধুনিক যুগে জিপিএস এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলেও, গভীর মরুভূমি বা পাহাড়ের নির্জনতায় এই এক টুকরো কাপড় আজও একজন যোদ্ধার কাছে বেঁচে ফেরার শেষ আশার আলো হয়ে কাজ করে।


সম্পর্কিত নিউজ