{{ news.section.title }}
ন্যাটো সম্মেলনের আগে কিয়েভে ভয়াবহ রুশ হামলা, নিহত অন্তত ১০
ন্যাটো সম্মেলন শুরুর একদিন আগে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ইউক্রেনের রাজধানীতে স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে একযোগে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও শত শত ড্রোন দিয়ে হামলা চালায় রাশিয়া। কিয়েভ সিটি মিলিটারি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পোডিলস্কি জেলা, যেখানে একটি বহুতল আবাসিক ভবনের কয়েকটি তলা ধসে পড়ে। এছাড়া ওবোলোনস্কি, দারনিৎসকি ও হোলোসিভস্কি জেলাতেও আবাসিক ভবন, গুদাম ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো বলেন, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করলেও বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানে। হামলার পরপরই দমকল বাহিনী, উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেন। তিনি নগরবাসীকে বিমান হামলার সতর্কতা জারি থাকা পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানান।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, হামলায় রাশিয়া ২৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ৩৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ছয়টি অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৫১টি আক্রমণাত্মক ও বিভ্রান্তিমূলক ড্রোন ব্যবহার করেছে। তাদের দাবি, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৩৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩২৬টি ড্রোন ভূপাতিত করলেও অন্তত ৩৪টি স্থানে হামলার প্রভাব পড়ে।
এই হামলাকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ মঙ্গলবার তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলন শুরু হচ্ছে। সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমা সামরিক সহায়তা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের বিষয়টি ওই বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপলের গভর্নর মিখাইল রাজভোঝায়েভ জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় হামলায় একটি জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। একই সময়ে মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন দাবি করেছেন, রাজধানীমুখী কয়েকটি ইউক্রেনীয় ড্রোন রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে।
পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ান্তিনিভকাকে ঘিরেও তীব্র লড়াই অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়া শহরটি দখলের দাবি করলেও ইউক্রেন তা প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনীয় সেনারা এখনো শহরটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া কিয়েভে ধারাবাহিকভাবে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটো সম্মেলনের আগে এই নতুন হামলা ইউক্রেনের ওপর সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ হতে পারে। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সহায়তার দাবি জোরালো করেছে কিয়েভ।