ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও কয়েক দিন চলতে পারে: ইসরাইল

ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও কয়েক দিন চলতে পারে: ইসরাইল
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকায় চলমান সামরিক সংঘাত আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা মহলে এমন মূল্যায়নের পর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং রিজার্ভ বাহিনীকে প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন অনুযায়ী ইরানের সঙ্গে বর্তমান সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে। ইসরাইলি আর্মি রেডিও জানিয়েছে, সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত মোকাবিলায় সেনাবাহিনী রিজার্ভ সদস্যদের ব্যাপকভাবে তলবের প্রস্তুতি শুরু করেছে। যদিও নিরাপত্তাজনিত কারণে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

 

নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় দেশজুড়ে সতর্কতাও জোরদার করেছে ইসরাইল। হোম ফ্রন্ট কমান্ড নতুন নির্দেশনায় জনসমাগম ও চলাচলের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী খোলা স্থানে সর্বোচ্চ ২০০ জন এবং ভবনের ভেতরে সর্বোচ্চ ৫০০ জন একত্র হতে পারবেন। তবে শর্ত হচ্ছে, জরুরি সতর্কতা জারি হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবাইকে নিকটবর্তী নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছাতে সক্ষম হতে হবে। এছাড়া নিরাপত্তা বিবেচনায় জনসাধারণের জন্য সমুদ্রসৈকত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে যেসব কর্মস্থলের কর্মীরা দ্রুত নিরাপদ এলাকায় আশ্রয় নিতে পারবেন, সেসব প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে।

 

এরই মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও রোববার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরাইলি বিমান হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ওই হামলার জবাবে ইরান উত্তর ইসরাইলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলে আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। পরবর্তীতে ইসরাইলও ইরানের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা বিমান হামলা চালায়।

 

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি। বরং যেকোনো সময় সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে ইরান-সমর্থিত আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা এবং সীমান্তবর্তী বিভিন্ন ফ্রন্টে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

 

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। এর জবাবে ইরান শুধু ইসরাইলই নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকা বিভিন্ন স্থাপনাকেও লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পরবর্তী সময়ে কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান এখনো অধরাই রয়ে গেছে।

 

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। ফলে সংঘাত নিয়ন্ত্রণে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানানো হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে।

 

সূত্র: আনাদোলু


সম্পর্কিত নিউজ