{{ news.section.title }}
মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে নয়: ট্রাম্পকে ইরানি দূতাবাস
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দূতাবাস বলেছে, মানুষকে হত্যা করা গেলেও আদর্শকে হত্যা করা যায় না।
ট্রাম্প সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের উপস্থিতি ও শোক প্রকাশ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তিনি ভেবেছিলেন ইরানের মানুষ খামেনিকে ঘৃণা করে। এমনকি তিনি দাবি করেন, চাইলে শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে লক্ষ্যবস্তু করা সম্ভব ছিল, তবে তা করলে ভবিষ্যতে আলোচনার সুযোগ নষ্ট হয়ে যেত।
ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের জবাবে ইয়েরেভানে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এক্সে একটি কড়া বার্তা প্রকাশ করে।
পোস্টে বলা হয়, “মানুষকে হত্যা করা যায়, কিন্তু আদর্শকে নয়। আপনারা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করেছেন, কিন্তু বাস্তবে আপনারা একটি পারফিউমের বোতল ভেঙেছেন, যার সুগন্ধ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। আপনারা এসব বোঝেন না, কারণ আপনাদের সভ্যতা, ইতিহাস বা সম্মান-কোনোটাই নেই।”
দূতাবাসের এই বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্য এবং ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক আরও আলোচনায় এসেছে।
এর আগে খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। রাষ্ট্রীয় আয়োজনে কয়েক দিনব্যাপী শোকানুষ্ঠানের কর্মসূচি হাতে নেয় ইরান। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের মন্তব্য ও তার জবাবে ইরানের কড়া প্রতিক্রিয়া দুই দেশের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।