{{ news.section.title }}
ওপেক প্লাসের উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে কমল তেলের দাম
ওপেক প্লাস (OPEC+) জোট আগস্ট থেকে আবারও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করায় বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অতিরিক্ত সরবরাহ ও দুর্বল চাহিদার আশঙ্কায় আগামী মাসগুলোতেও তেলের বাজারে মূল্যচাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
সোমবার এশিয়ার লেনদেন শুরুর দিকে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৪১ শতাংশ বা ১ দশমিক ০২ ডলার কমে ৭১ দশমিক ১০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম ৮০ সেন্ট বা ১ দশমিক ১৬ শতাংশ কমে ৬৭ দশমিক ৮৯ ডলারে দাঁড়ায়। মার্কিন স্বাধীনতা দিবসের ছুটির কারণে শুক্রবার WTI-এর নিয়মিত নিষ্পত্তি হয়নি।
রোববার অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে ওপেক প্লাসের সাতটি প্রধান উৎপাদক দেশ আগস্ট থেকে দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে জুন ও জুলাই মাসেও একই পরিমাণ উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় মোট প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল অতিরিক্ত উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোটটি।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তের পুরো প্রভাব এখনো বাস্তবে দেখা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের সময় হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাকসহ কয়েকটি প্রধান উৎপাদক দেশ নির্ধারিত কোটার পুরোটা উৎপাদন করতে পারেনি। ফলে ঘোষিত উৎপাদন বৃদ্ধি অনেকটাই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ ছিল।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি ধীরে ধীরে বাড়ছে। জুন মাসে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি মে মাসের তুলনায় দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি বেড়ে এক কোটিরও বেশি ব্যারেলে পৌঁছেছে। যদিও এটি এখনো যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম।
রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী, জুনে ওপেকের ১১ সদস্য দেশের মোট উৎপাদন আগের মাসের তুলনায় ৩৩ লাখ ব্যারেল বেড়ে ১ কোটি ৯৪৩ লাখ ব্যারেল (১৯.৪৩ মিলিয়ন ব্যারেল) হয়েছে। সবচেয়ে বেশি উৎপাদন বেড়েছে কুয়েত ও ইরানে। সৌদি আরব, ইরাক, নাইজেরিয়া ও লিবিয়াও উৎপাদন বাড়িয়েছে। তবে এই হিসাবের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) অন্তর্ভুক্ত নয়, কারণ দেশটি মে মাস থেকে ওপেক ছাড়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, উৎপাদন বাড়লেও সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো-এই অতিরিক্ত তেল কিনবে কে? কারণ চীনের অপরিশোধিত তেল আমদানি প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল রয়েছে এবং বৈশ্বিক চাহিদাও কমেছে। ANZ ব্যাংকের বিশ্লেষকদের মতে, চলতি বছরে বৈশ্বিক তেলের চাহিদা দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল কমে যেতে পারে। যদিও বছরের দ্বিতীয়ার্ধে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে কিছুটা চাহিদা ফিরতে পারে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি ADNOC স্পট বাজারে ছাড়মূল্যে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বিক্রি করেছে, যা বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সময়ে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বাড়িয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, জুনে এসব বন্দর থেকে রাশিয়ার তেল রপ্তানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং জুলাইয়েও একই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের প্রধান নজর থাকবে তিনটি বিষয়ের ওপর-হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ওপেক প্লাসের উৎপাদন বাস্তবে কতটা বাড়ে এবং চীসহ বড় অর্থনীতিগুলোতে তেলের চাহিদা কত দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। এই তিনটি বিষয়ই আগামী মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের দামের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।