{{ news.section.title }}
এক নজরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত যে গতিতে বিস্তৃত হয়েছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের একাধিক দেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সামরিক হামলা-পাল্টা হামলার পাশাপাশি এখন বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে বেসামরিক প্রাণহানি, স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ক্ষতি, বাস্তুচ্যুতি এবং জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ।
ইরানে প্রাণহানি ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো নিয়ে উদ্বেগ
ইরানে হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা সামনে আসছে। একটি আন্তর্জাতিক লাইভ রিপোর্টে ইরানের রেড ক্রিসেন্টের বরাতে বলা হয়েছে, ইরানে নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে ১,৩৩২।
একই সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, সংঘাত চলাকালে তারা ইরানে স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ওপর ১৩টি হামলা যাচাই করেছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের হতাহত হওয়ার রিপোর্টও খতিয়ে দেখছে। WHO আরও বলেছে, ইরান থেকে আনুমানিক ১ লাখ মানুষ চলে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো সংঘাতে হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, ক্লিনিক-এসব সেবা কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু তাৎক্ষণিক মৃত্যু নয়, চিকিৎসা ব্যাহত হয়ে পরবর্তী সময়ে মৃত্যু ও রোগ-ঝুঁকিও বাড়ে। তাই স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ক্ষতি যুদ্ধের “দ্বিতীয় ধাক্কা” হিসেবে দেখা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ শর্ত ও সময়সীমার ইঙ্গিত
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য সংঘাতকে আরও রাজনৈতিকভাবে “শর্তভিত্তিক” দিকে ঠেলে দিয়েছে। আল জাজিরার একটি লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির শর্ত হিসেবে ‘unconditional surrender’ (নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ)-এর কথা বলেছেন।
একই ধারায় হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটের বক্তব্য নিয়ে আন্তর্জাতিক রিপোর্টে ইঙ্গিত আসে-যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে অর্জন সম্ভব বলে মনে করছে।
যুদ্ধের মাঠে এই ধরনের সময়সীমার কথা বলা সাধারণত দু’ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়-একদিকে এটি অভ্যন্তরীণ জনমতকে “পরিকল্পিত অপারেশন” হিসেবে দেখাতে সাহায্য করে, অন্যদিকে প্রতিপক্ষকে মনস্তাত্ত্বিক চাপেও রাখে। তবে বাস্তবে সংঘাত দীর্ঘ হলে মানবিক ও অর্থনৈতিক ব্যয় দ্রুত বাড়ে।
লেবাননে হামলা ও বাস্তুচ্যুতি: মানবিক সংকটের আশঙ্কা
সংঘাতের সমান্তরালে লেবাননে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একদিকে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে রিপোর্ট এসেছে-ইসরায়েলি হামলায় ২১৭ জন নিহত এবং ৭৯৮ জন আহত।
অন্যদিকে, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল (NRC)–এর অনুমান উদ্ধৃত করে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ইসরায়েল লেবাননে বিমান হামলা শুরুর পর ১০০ ঘণ্টার কম সময়ে প্রায় ৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে।
বাস্তুচ্যুতি বাড়লে আশ্রয়, খাবার, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা-সবকিছুর ওপর চাপ পড়ে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শরণার্থীর ঢল নামলে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরও সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়।
হিজবুল্লাহর প্রতিক্রিয়া ও সীমান্ত উত্তেজনা
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের দুটি স্থানে রকেট হামলা চালিয়েছে এবং এটি লেবাননে হামলার জবাব হিসেবে দাবি করেছে।
এ ধরনের “রেসিপ্রোকাল স্ট্রাইক” পরিস্থিতিকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিতে পারে-কারণ প্রতিটি হামলা আরেকটি পাল্টা হামলার যুক্তি তৈরি করে, ফলে সংঘাতের ভৌগোলিক পরিসর ও লক্ষ্যবস্তুর তালিকা বড় হতে থাকে।
বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ: জ্বালানি রুট ও বাজার ঝুঁকি
যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বড় উদ্বেগ হয় জ্বালানি রুট ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়া। আল জাজিরা লাইভ আপডেটে কাতারের জ্বালানি মন্ত্রীর সতর্কবার্তার কথা এসেছে-যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে এবং উৎপাদন/রফতানিতেও চাপ তৈরি হতে পারে।
যদিও প্রতিটি দেশের নীতি ও অবস্থা ভিন্ন, জ্বালানি ঘাটতির শঙ্কা তৈরি হলেই বাজারে “প্রাইস-স্পাইক” এবং বীমা/ফ্রেইট চার্জ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এর প্রভাব ইউরোপ-এশিয়া সবখানেই পড়ে-কারণ জ্বালানি দামের ধাক্কা পরিবহন, খাদ্য, উৎপাদন ব্যয়-সবকিছুর সঙ্গে যুক্ত।
নেতৃত্ব, ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক জটিলতা
সংঘাতের মধ্যে নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে কথাবার্তাও বাড়ছে। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরবর্তী নেতার নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখবে-এ বক্তব্য আন্তর্জাতিকভাবে বড় কূটনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ ধরনের অবস্থান একদিকে তেহরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপের ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে যুদ্ধ-পরবর্তী সমঝোতা কতটা “রাজনৈতিক শর্তযুক্ত” হবে-সেই প্রশ্নও উস্কে দেয়।