জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামো, কার বেতন কত বাড়ছে?

জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামো, কার বেতন কত বাড়ছে?
ছবির ক্যাপশান, এআই ছবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বা নবম পে-স্কেল নিয়ে আবারও আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে। আগামী জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল কার্যকরের আভাস দিয়েছে সরকার। নতুন এই বেতনকাঠামোর আওতায় আসবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনার এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। যদিও বেতন কত শতাংশ বাড়বে বা কোন গ্রেডে কী পরিমাণ বৃদ্ধি হবে-সেটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ চলছে।

 

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেন, “আগামী ১ জুলাই থেকে আমরা নতুন পে-স্কেল চালু করছি। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে। তাই এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।”

 

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, একবারে পুরো সুবিধা কার্যকর না করে তিন ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী বাজেটে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার আলোচনা চলছে।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত মূল বেতনের (বেসিক) ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর করা হতে পারে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি বেসিক বেতন সমন্বয় করা হবে। আর তৃতীয় ধাপে ২০২৮-২৯ অর্থবছরে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ও অন্যান্য ভাতা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

 

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। তখনও নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে কার্যকর করা হয়। প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং পরে বিভিন্ন ভাতা বাড়ানো হয়েছিল। প্রায় ১১ বছর পর আবারও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নবম পে-স্কেলে ২০টি গ্রেড রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।

 

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনে। বাকি অর্থ পেনশনার এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সুবিধা বাড়াতে ব্যয় করা হবে।

 

বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী রয়েছেন। তাদের বেতন-ভাতা ও পেনশনের পেছনে সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে এই ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

নবম পে কমিশনের প্রধান ও সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান বলেছেন, গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচ ব্যাপক বেড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত আয় আগের তুলনায় কমে না যায়।

 

এদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠনগুলোও দ্রুত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। তাদের দাবি, বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাজারে পুরোনো বেতন কাঠামো দিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ