ভ্রমণ ভিসায় হজ নয়, অনুমতি ছাড়া পবিত্র ভূমিতে প্রবেশে কড়াকড়ি—সতর্কবার্তা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের

ভ্রমণ ভিসায় হজ নয়, অনুমতি ছাড়া পবিত্র ভূমিতে প্রবেশে কড়াকড়ি—সতর্কবার্তা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Sourav Debnath

চলতি হজ মৌসুমে অনুমতি ছাড়া কেউ যাতে হজ পালনের উদ্যোগ না নেন, সে বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা জারি করেছে বাংলাদেশ ধর্ম মন্ত্রণালয়। হজ ব্যবস্থাপনাকে শৃঙ্খলিত, সুনির্দিষ্ট ও নিরাপদ রাখতে এবং সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসস জানিয়েছে, বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে—কেউ যেন ভ্রমণ ভিসায় সৌদি আরব গিয়ে মক্কা বা অন্যান্য পবিত্র স্থানসমূহে অবস্থান না করেন। এমনকি ভিসা বিধিমালা লঙ্ঘন করে যারা হজের চেষ্টা করবেন, তাদের পৃষ্ঠপোষকতা, পরিবহন, আবাসন কিংবা হজ এলাকায় প্রবেশে সহায়তা করাও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

এ বছরের হজ মৌসুমে অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকার এনেছে নতুন বিধিমালা। এই নিয়ম অনুসারে, মক্কায় প্রবেশ করতে হলে থাকতে হবে হজ পারমিট, বৈধ ইকামা এবং কাজের অনুমতিপত্র। এসব কাগজপত্র ছাড়া কেউ পবিত্র শহরে প্রবেশ করলে তা হবে আইন লঙ্ঘন।

এবারের নির্দেশনায় সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে—যদি কেউ অনুমতি ছাড়া হজে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে তাকে ২০ হাজার সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। শুধু হজ পালনকারীকেই নয়, যারা তাদের সহায়তা করবেন, যেমন—যানবাহন সরবরাহ, হোটেল বা বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া কিংবা পবিত্র এলাকায় প্রবেশে সাহায্য করবেন, তাদের জন্যও রয়েছে সর্বোচ্চ ১ লাখ রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান। এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তির যানবাহন আদালতের রায়ে বাজেয়াপ্ত হওয়ার সম্ভাবনাও থাকছে।

আরও একটি কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি সরকার। যদি কোনো বিদেশি নাগরিক বৈধ অনুমতি ছাড়া হজে অংশ নেন কিংবা নির্ধারিত সময়সীমার বেশি সৌদি আরবে অবস্থান করেন, তবে তাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে এবং আগামী ১০ বছর তিনি সৌদি আরবে প্রবেশের অনুমতি পাবেন না।

এই কঠোর নির্দেশনা কার্যকর থাকবে হিজরি ১৪৪৬ সনের জিলকদ মাসের ১ তারিখ থেকে জিলহজ মাসের ১৪ তারিখ পর্যন্ত।

সব মিলিয়ে স্পষ্ট যে, এবার হজে যাত্রা করতে হলে নিয়ম ভাঙার কোনো সুযোগ নেই। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি অনুরোধ—নিয়ম মেনে, যথাযথ অনুমতি নিয়ে হজ পালনের প্রস্তুতি নিন, নয়তো আইন ভাঙার ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে কঠিন পরিণতির মুখে।

সম্পর্কিত নিউজ