আগামীকাল উদ্বোধন, সারা দেশে ৩৭ হাজার ৫৬৭ নারীপ্রধান পরিবার পাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’

আগামীকাল উদ্বোধন, সারা দেশে ৩৭ হাজার ৫৬৭ নারীপ্রধান পরিবার পাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’
ছবির ক্যাপশান, আগামীকাল উদ্বোধন, সারা দেশে ৩৭ হাজার ৫৬৭ নারীপ্রধান পরিবার পাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’

দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক নারীপ্রধান পরিবারগুলোর আর্থিক সুরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পরীক্ষামূলক (পাইলট) পর্যায়ে সারা দেশে মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদানের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলো নিয়মিত ভাতা ও বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির সুবিধা পাবে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাল্টি পারপাস হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেসমাজকল্যাণ এবং মহিলা ওশিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিশেষ করে নারীপ্রধান পরিবারগুলোকেসহায়তা প্রদান এবং তাদের অর্থনৈতিকসক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি চালুকরা হয়েছে।

মন্ত্রীজানান, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আগামীকাল (১০ মার্চ) সকাল১০টায় রাজধানীর বনানী এলাকার টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।কড়াইল বস্তি সংলগ্ন ওই স্থানে আয়োজিতঅনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচিটির শুভসূচনা করবেন।

সরকারদীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র জনগোষ্ঠীরজন্য বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। তবেএসব সুবিধা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদেরকাছে পৌঁছায়, সে লক্ষ্যেই আধুনিকপ্রযুক্তিনির্ভর একটি নতুন পদ্ধতিচালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি সেই উদ্যোগেরই একটিগুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মন্ত্রীবলেন, নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এবং তাদেরঅর্থনৈতিক স্বাধীনতা বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীকে পরিবারের প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার নামেকার্ড প্রদান করা হলে পরিবারেরসার্বিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সরকারআশা করছে।

সংবাদসম্মেলনে মন্ত্রী জানান, এই কর্মসূচিতে উপকারভোগীনির্বাচন সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতিতে করা হয়েছে। বিশেষসফটওয়্যার ব্যবহার করে প্রক্সি মিনসটেস্ট বা দারিদ্র্য সূচকপদ্ধতির মাধ্যমে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

তিনিবলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেসম্পন্ন হওয়ায় এতে কোনো ধরনেরদুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ব্যক্তিগত প্রভাবখাটানোর সুযোগ নেই। ফলে প্রকৃতদরিদ্র পরিবারগুলোকে বাছাই করা সম্ভব হয়েছে এবং এটিই সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হবে।

পাইলটপর্যায়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নারীপ্রধান পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহ করাহয়। মোট ৬৭ হাজার৮৫৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহের পরসফটওয়্যারের মাধ্যমে তাদের আর্থিক অবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়।

এই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরিবারগুলোকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়-হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত। এরমধ্যে হতদরিদ্র, দরিদ্র এবং নিম্ন মধ্যবিত্তশ্রেণির ৫১ হাজার ৮০৫টিপরিবারের তথ্য বিশেষভাবে যাচাইকরা হয়।

পরবর্তীতেযাচাই-বাছাই শেষে ৪৭ হাজার৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক বলেনিশ্চিত করা হয়। তবেসরকারি চাকরি, পেনশন সুবিধা গ্রহণ অথবা একই ব্যক্তিএকাধিক ভাতা নেওয়ার মতোবিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্যনির্বাচন করা হয়েছে।

মন্ত্রীজানান, পাইলট কর্মসূচির প্রথম ধাপে দেশের ১৩টিজেলার অন্তর্ভুক্ত ১৩টি সিটি কর্পোরেশনও ইউনিয়নের মোট ১৫টি ওয়ার্ডেএই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। পরীক্ষামূলকভাবেকার্যক্রমটি চালু করার পরএর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদেরমতে, নারীপ্রধান পরিবারগুলো সাধারণত অর্থনৈতিকভাবে বেশি ঝুঁকির মধ্যেথাকে। তাদের অনেকেই স্থায়ী আয়ের উৎস থেকেবঞ্চিত। ফলে সরকারি সহায়তাকর্মসূচির আওতায় এনে তাদের সামাজিকনিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদেরমতে, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে একদিকে যেমন দরিদ্র নারীরাসরাসরি সরকারি সহায়তা পাবে, অন্যদিকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে উপকারভোগী নির্বাচন করায় স্বচ্ছতা ওজবাবদিহিতাও বাড়বে।

সব মিলিয়ে, নারীপ্রধান পরিবারকে কেন্দ্র করে চালু হতেযাওয়া এই নতুন কর্মসূচিদেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজনহিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


সম্পর্কিত নিউজ