{{ news.section.title }}
ঈদের পর বাজারে স্বস্তি, সবজি-মাছ-মাংসের দাম স্থিতিশীল
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক চিত্র ফেরেনি। বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ থাকলেও যেসব দোকান খুলেছে, সেখানে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ঈদের পর সবজি, মাছ ও মাংসের বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়নি। বরং কিছু পণ্যের দাম আগের তুলনায় কমেছে।
শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের তৃতীয় দিনেও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি সীমিত। অনেক ব্যবসায়ী এখনো দোকান খোলেননি। যারা দোকান খুলেছেন, তারাও বলছেন, বাজারে ক্রেতা কম থাকায় বেচাকেনা জমেনি। তবে টাটকা সবজি ও জরুরি বাজারের প্রয়োজনে কিছু ক্রেতা বাজারে আসছেন।
বিক্রেতারা জানান, ঈদের কারণে কয়েক দিন সবজির সরবরাহ কিছুটা কম ছিল। অনেক দোকানে ঈদের আগে আনা সবজিই বিক্রি করা হয়েছে। তবে শুক্রবার রাত থেকে নতুন সবজির সরবরাহ বাজারে আসতে শুরু করেছে। নতুন সরবরাহ আসায় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বৃষ্টি না হওয়ায় সবজির বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়নি বলেও জানান তারা।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে ২০টির বেশি সবজির দোকান থাকলেও শনিবার সকালে খোলা ছিল মাত্র কয়েকটি। মাছের দোকানও ছিল সীমিত সংখ্যক। গরুর মাংসের বেশির ভাগ দোকান বন্ধ দেখা গেছে। তবে খাসির মাংস ও মুরগির কয়েকটি দোকান খোলা ছিল। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজারেও। ফলের দোকান তুলনামূলক বেশি খোলা থাকলেও সেখানেও ক্রেতার চাপ খুব বেশি ছিল না।
বাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে রয়েছে। প্রতি পিস লাউ বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়। চিচিঙ্গা, ঝিঙে, ধুন্দল ও পেঁপে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কাঁকরোল, করলা ও বরবটি বিক্রি হয়েছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। টমেটো প্রতি কেজি ১০০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, গাজর ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ঈদের আগেও এসব পণ্যের দাম প্রায় একই পর্যায়ে ছিল।
ঈদুল আজহার পর সাধারণত মুরগি, গরু ও খাসির মাংসের চাহিদা কমে যায়। এর প্রভাব বাজারেও দেখা গেছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। ঈদের আগে ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিল প্রায় ২০০ টাকা। সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩৭০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজি দরে। হাইব্রিড জাতের সোনালি মুরগির দাম আরও কিছুটা কম ছিল। ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকায়, যা ঈদের আগের সপ্তাহে ছিল ১৫০ টাকা।
মাছের বাজারে সরবরাহ এখনো কম। ইলিশসহ আগে থেকে সংরক্ষণ করা মাছের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। নতুন সরবরাহ এসেছে পাঙাশ, তেলাপিয়া, পাবদা, চিংড়িসহ কয়েক প্রজাতির মাছের। পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ টাকা এবং পাঙাশ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
শাকের বাজারে লালশাক, পাটশাক ও পুঁইশাকসহ কয়েক ধরনের শাক পাওয়া গেছে। তবে সরবরাহ কম থাকায় সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রতি আঁটিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দাম রাখা হচ্ছে।
বিক্রেতাদের মতে, আরও দু-এক দিনের মধ্যে বাজারে দোকানপাট পুরোপুরি খুললে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হলে ক্রেতার উপস্থিতিও বাড়বে। তবে আপাতত ঈদ-পরবর্তী বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা নেই। বরং ক্রেতা কম এবং নতুন সরবরাহ আসায় সবজি, মাছ, মাংস ও ডিমের বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।