বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ধারাবাহিক উদ্যোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে কেন্দ্র করে নেওয়া পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশ আগামী দিনে বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থনীতিতে পরিণত হবে।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সফরে এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগ, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই), ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগ-সব ধরনের বিনিয়োগই আসছে। সরকারের লক্ষ্য দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা।

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেট শুধু ব্যয় পরিকল্পনা নয়, বরং বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে প্রস্তুত করা হয়েছে। কোথায় কী ধরনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে, কীভাবে তা কাজে লাগানো যাবে এবং কীভাবে বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব হবে-এসব বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান লজিস্টিক্যাল হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের বড় পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে বিদেশি বিনিয়োগও বাড়ছে। চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর সমুদ্রবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থান। এসব সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে সরকার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

 

তিনি জানান, কর্ণফুলী নদীর ওপারে আনোয়ারায় ৬০০ একর জমির ওপর একটি ফ্রি জোন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে একাধিক নতুন বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক্যাল হাবে পরিণত করার ভিত্তি তৈরি হবে।

 

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কার্গো হাব ও প্যাসেঞ্জার হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামে একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করা হবে, যা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশ উন্নয়নের মাধ্যমে ট্রেনে যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক করিডর একটি শক্তিশালী লজিস্টিক্যাল হাবে পরিণত হবে। এতে বন্দরগুলোর সক্ষমতা ও কার্যক্রমও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

 

মাতারবাড়ীকে ঘিরেও সরকারের বড় ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই এলাকাকে কেন্দ্র করেও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম ও আশপাশের অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক্যাল সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নিয়েই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদি। বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগবে। তবে যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করার চেষ্টা করবে সরকার।

 

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন সহজ নয়। বর্তমান সরকার আগের সরকারের কাছ থেকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবও যুক্ত হয়েছে। তাই প্রথমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে। এরপর দেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে কাজে লাগিয়ে প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত করা হবে।

 

তিনি বলেন, সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ বছর থেকে সমৃদ্ধির ধারা আরও দৃশ্যমান হবে এবং দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ধীরে ধীরে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন এবং মহানগর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এম এ আজিজসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


সম্পর্কিত নিউজ