{{ news.section.title }}
রাতের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা কয়েকটি অঞ্চলে
চট্টগ্রামসহ দেশের ১১টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে বুধবার (১ জুলাই) রাত ১টার মধ্যে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সময়ে এসব এলাকায় বজ্রপাতসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগের কথা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
বুধবার অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সর্বশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। ঝড়ের পাশাপাশি বজ্রপাত এবং বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সম্ভাব্য ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নদীপথে চলাচলকারী নৌযান, বিশেষ করে ছোট নৌকা, মাছ ধরার ট্রলার এবং যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার আরেক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এছাড়া এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যান্য এলাকায় এটি মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে।
এছাড়া আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্ষাকালে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হঠাৎ করেই ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বিশেষ করে নদীপথে চলাচলকারী নৌযান, উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা, জেলে এবং খোলা মাঠে কাজ করা মানুষকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ভারী বৃষ্টির কারণে নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তাই স্থানীয় প্রশাসন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।