১২৭ বারের মত পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন

১২৭ বারের মত পেছাল সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আবারও নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। দীর্ঘ ১৪ বছরের বেশি সময় ধরে আলোচিত এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা না হওয়ায় ১২৭তম বারের মতো সময় বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম নতুন করে আগামী ২২ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর মডেল থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা এবং পুলিশের উপপরিদর্শক রফিকুল ইসলাম রাসেল। তিনি জানান, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় আদালত নতুন দিন ধার্য করেছেন।

 

দেশের অন্যতম আলোচিত এই হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন ও সমালোচনা রয়েছে। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার রহস্য উদ্ঘাটন কিংবা অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়ায় নিহতদের পরিবার, সাংবাদিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

 

মামলাটির তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। ওই দিন হাইকোর্ট সাংবাদিক দম্পতি হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাবের কাছ থেকে সরিয়ে নেয়। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।

 

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও তদন্ত শেষ করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং মামলার অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের কাছে অতিরিক্ত সময়ের আবেদন জানায়। পরে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট তদন্ত সম্পন্নের জন্য আরও ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেন এবং পরবর্তী আদেশের জন্য ২২ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেন।

 

কিন্তু সেই সময়সীমার মধ্যেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি। এরপর গত ২৩ অক্টোবর বিভিন্ন সংস্থার অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সকে তদন্ত শেষ করার জন্য আরও ছয় মাস সময় দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ২৬ এপ্রিলও তদন্ত কাজ সম্পন্ন করতে টাস্কফোর্সকে নতুন করে ছয় মাস সময় দেন হাইকোর্ট।

 

এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত চললেও এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ রহস্য উন্মোচন কিংবা চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে মামলাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসা থেকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সময় সাগর সারোয়ার মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক এবং মেহেরুন রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

 

ঘটনার পরদিন নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার তদন্ত শুরু হলেও এক যুগেরও বেশি সময় পার হওয়ার পরও তদন্ত শেষ হয়নি।

 

বিচারপ্রত্যাশী পরিবার ও সাংবাদিক সমাজের দাবি, দেশের বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক। তবে তদন্তে বারবার সময় বাড়ানো এবং প্রতিবেদন দাখিলে দীর্ঘসূত্রতার কারণে বিচারপ্রক্রিয়া কবে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।


সম্পর্কিত নিউজ