{{ news.section.title }}
হামের উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৫৮৩
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যু অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এসব মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গে আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে কারও মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৮৬ শিশু।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ঢাকায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিলেটে মারা গেছে দুই শিশু, চট্টগ্রামে এক শিশু এবং ময়মনসিংহে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সংক্রমণ ও উপসর্গজনিত জটিলতা এখনো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৯৩ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯০ শিশু। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট শিশুমৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৫৮৩ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৬৯ হাজার ৬১২ শিশুর। এ সময়ে ৮ হাজার ৯৯৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা নিশ্চিত শনাক্ত রোগীর তুলনায় অনেক বেশি। এতে রোগ শনাক্ত, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এ সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৫ হাজার ৭০৫ শিশু। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৫২ হাজার ৫০ শিশু বাড়ি ফিরেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯০৭ শিশু, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৫৩৯ শিশু। একই সময়ে ৫৩ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ১ হাজার ৩৩ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসার আওতায় এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। শিশুদের মধ্যে জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ির মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অপুষ্টি, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা এবং টিকা না নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকি বেশি থাকে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দুই ডোজ টিকা শিশুদের হাম থেকে সুরক্ষা দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে আক্রান্ত বা উপসর্গ থাকা শিশুকে অন্য শিশুদের কাছ থেকে আলাদা রাখা, দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং জটিলতা দেখা দিলে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশে চলমান এই পরিস্থিতি স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এত বেশি মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির ঘটনা পরিবার, চিকিৎসক ও প্রশাসনের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি এবং টিকাদান কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।