পদ্মা সেতুতে ঈদ ছুটির ৫ দিনে টোল আদায় ছাড়াল ১৭ কোটি

পদ্মা সেতুতে ঈদ ছুটির ৫ দিনে টোল আদায় ছাড়াল ১৭ কোটি
ছবির ক্যাপশান, পদ্মা সেতুতে ঈদ ছুটির ৫ দিনে টোল আদায় ছাড়াল ১৭ কোটি

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির পাঁচ দিনে পদ্মা সেতু দিয়ে বিপুল সংখ্যক যানবাহন চলাচল করেছে। ২৬ মে থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সরকারি ছুটির সময়ে সেতুর উভয় প্রান্ত দিয়ে মোট ১ লাখ ৬৩ হাজার ২২৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১৭ কোটি ১০ লাখ ৫ হাজার ৭৫০ টাকা।

পদ্মা সেতুর সাইট অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে পদ্মা সেতু ছিল অন্যতম প্রধান রুট। ঈদের আগে বাড়িমুখী যাত্রী এবং ঈদের পর ফিরতি যাত্রা দুই দিক মিলিয়ে সেতুতে যানবাহনের চাপ ছিল বেশি। তবে টোল প্লাজা ও সংযোগ সড়কে বড় ধরনের দীর্ঘস্থায়ী যানজটের খবর পাওয়া যায়নি।

 

পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ নিলয় জানান, পাঁচ দিনে নগদ ও ইলেকট্রনিক টোল কালেকশনসহ মোট ১৭ কোটি টাকার বেশি টোল আদায় হয়েছে। এর মধ্যে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন বা ইটিসি ব্যবস্থার মাধ্যমে ২ হাজার ১০৩টি যানবাহন পার হয়েছে। এই খাতে টোল আদায় হয়েছে ৩৭ লাখ ২ হাজার ৪০০ টাকা।

 

তথ্য অনুযায়ী, ২৬ মে ঈদের ছুটির প্রথম দিন পদ্মা সেতু দিয়ে সবচেয়ে বেশি যানবাহন চলাচল করে। ওই দিন ৪৫ হাজার ৬০২টি যানবাহন সেতু পার হয় এবং টোল আদায় হয় ৫ কোটি ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ টাকা। ঈদযাত্রার চাপের কারণে ওই দিন সেতু এলাকায় যানবাহনের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক বেশি।

 

অন্যদিকে ঈদুল আজহার দিন ২৮ মে সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল ছিল সবচেয়ে কম। ওই দিন ২০ হাজার ৮১৫টি যানবাহন পারাপার হয় এবং টোল আদায় হয় ২ কোটি ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৪০০ টাকা। ঈদের দিন সাধারণত মানুষের চলাচল কম থাকায় যানবাহনের চাপও তুলনামূলক কম থাকে।

 

পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। ঈদসহ বড় ছুটির সময়ে যাত্রীদের একটি বড় অংশ এখন সড়কপথে পদ্মা সেতু ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। এতে ফেরিঘাটের দীর্ঘ অপেক্ষা কমেছে এবং সময় সাশ্রয় হয়েছে। একই সঙ্গে সেতুর টোল আদায়ও বড় অঙ্কে দাঁড়াচ্ছে।

 

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা সেতু চালুর ফলে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি আগের তুলনায় অনেক কমেছে। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা দ্রুত ঢাকায় যাতায়াত করতে পারছেন। এর ফলে সড়কপথে যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে।

 

তবে সেতু ও এক্সপ্রেসওয়ে ঘিরে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটির পাঁচ দিনে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে ১৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় একজন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পাঁচটি যানবাহনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

 

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, অতিরিক্ত গতি, অসতর্ক চালনা, ক্লান্ত চালক এবং যানবাহনের যান্ত্রিক ত্রুটি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। ঈদযাত্রার সময় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক চালক পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেন না। ফলে এক্সপ্রেসওয়ের মতো দ্রুতগতির সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা জরুরি। এক্সপ্রেসওয়েতে গতিনিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত টহল, দ্রুত উদ্ধারব্যবস্থা, যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা এবং চালকদের সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

 

সব মিলিয়ে ঈদের ছুটির পাঁচ দিনে পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলাচল ও টোল আদায়ের বড় অঙ্ক সেতুটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। তবে যাত্রীসেবা ও দ্রুত যোগাযোগের পাশাপাশি নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ।


সম্পর্কিত নিউজ