নির্বাচনের নিরাপত্তায় থাকছে ডগ স্কোয়াড, ২৫ হাজার বডি ক্যামেরা ও ৪১৮টি ড্রোন

নির্বাচনের নিরাপত্তায় থাকছে ডগ স্কোয়াড, ২৫ হাজার বডি ক্যামেরা ও ৪১৮টি ড্রোন
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

আসন্ন জাতীয় ত্রয়োদশ নির্বাচনে নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন থাকবে ডগ স্কোয়াড এবং পুলিশ ও নিরাপত্তায়বাহীনির কাছে ২৫ হাজার বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ৪১৮টি ড্রোন থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি’র ২০তম বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, পুলিশ সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবেন যা সঠিক সময়ে মনিটরিং এবং জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করবে। এছাড়া ৪২,৭৬১ টি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় আকাশপথে নজরদারির জন্য বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মোট ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করা হবে। ৪১৮টি ড্রোনের মধ্যে সেনাবাহিনী ২০০টি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১০০টি, বাংলাদেশ পুলিশ ৫০টি, কোস্টগার্ড ২০টি এবং নৌবাহিনী, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ১৬টি করে ব্যবহার করবে।

এসময় উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেন ‘বডি ক্যামেরা, ড্রোন এবং একটি কেন্দ্রীভূত নিরাপত্তা অ্যাপের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার আমাদের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।‘

এছাড়াও নিরাপত্তা আরও জোরদার করার জন্য, বিভিন্ন বাহিনী ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করবে বলে জানান উপদেষ্টা।

তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ব্যালট, নির্বাচনী উপকরণ এবং কর্মকর্তাদের দূরবর্তী ভোটকেন্দ্রে পরিবহন করবে। 

উপদেষ্টা বলেন যে নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্টগার্ডসহ স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
প্রথম পর্বে চলমান মোতায়েন করা সেনারা বলবৎ থাকবে। দ্বিতীয় পর্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি-৭ দিন ভোটকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন করবেন।
সকল বাহীনি সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হবে যেখানে একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। 

নির্বাচন উপলক্ষ্যে ১ লক্ষ সেনাবাহিনী, ৫ হাজার নৌ-বাহিনী, বিমান বাহিনী ৩ হাজার ৭৩০, ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন পুলিশ সদস্য, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪,বিজিবি ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫, র‍্যাব ৭ হাজার ৭০০, এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর ১৩ হাজার ৩৯০ জনসহ মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানান মাননীয় উপদেষ্টা।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি) যে নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬ তৈরি করেছে তা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন উপদেষ্টা।
উল্লেখ্য, এই অ্যাপ সরাসরি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, রিটার্নিং এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সাথে সংযুক্ত থাকবে। ফলে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত যেকোনো ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন তৈরি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব হবে।

বাংলাদেশে এবার প্রথমবারের মতো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের জন্য এক সমন্বিত নির্বাচনী প্রশিক্ষণ এর আয়োজন করা হয়েছে। যা আগামী ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ এর মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে জানান উপদেষ্টা। 

এতো সকল আয়োজনে ও কড়া নিরাপত্তা দেশে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন কর্তৃপক্ষ।

সম্পর্কিত নিউজ