{{ news.section.title }}
ঢাবির শিক্ষার্থীরা ডিসি মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে থানায় অবস্থান নিলেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাইমুদ্দীনের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ থানা ঘেরাও করেছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার পর থেকে ঢাবির নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করছেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাইমুদ্দীনের ওপর পুলিশ নির্দোষভাবে হামলা চালিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, “রাস্তা-ঘাটে পুলিশ যে কাউকে বিনা কারণে মারতে পারবে, এ অধিকার কে দিয়েছে? সাধারণ মানুষ কি আর রাস্তায় হেঁটে যেতে পারবে না? রাস্তা কি পুলিশের সম্পত্তি?” তারা দাবি করেন, ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তারা কর্মসূচি থেকে সরবেন না।
এ সময় ঢাবি শিক্ষার্থীরা ৩ দফা দাবি জানান। তাদের দাবিগুলো হলো-
১. ডিসি মাসুদসহ হামলায় অংশ নেওয়া প্রত্যেক পুলিশের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. ক্যাম্পাস এলাকার ভেতরে ও বাইরে সব ধরনের অযাচিত পুলিশিং বন্ধ করতে হবে।
৩. বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলা মাদকবিরোধী অভিযানের সময় দুই মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কিছু সাধারণ দর্শনার্থীর ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা ঘটে সোমবার সন্ধ্যায়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হলেন বাংলানিউজ২৪.কম-এর তোফায়েল আহমেদ (২৫) এবং আজকের পত্রিকার কাউসার আহমেদ রিপন (২৭)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একদল পুলিশ সদস্য তোফায়েলকে লাঠি দিয়ে মারছেন। পরে অন্যান্য পুলিশ সদস্য তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন।
তোফায়েল আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযানের ভিডিও ধারণ করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে চার-পাঁচজন কনস্টেবল মিলে তাকে মারধর শুরু করেন। হামলা বন্ধ করার চেষ্টা করতে গিয়ে সহকর্মী রিপন আহমেদও আক্রান্ত হন। তিনি বলেন, “পুলিশকে থামাতে বলায় তারা আমাকে ভিডিও করতে বাধা দেয় এবং লাঠি দিয়ে পায়ে আঘাত করে।”
এ ঘটনায় আরও অভিযোগ উঠেছে যে, শিক্ষার্থীরা এবং সাধারণ দর্শনার্থীরা তাদের পথ চলাচলের স্বাভাবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং একাধিককে ভয়ভীতিতে রাখতে হয়েছে। কিছু স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী বলছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের আচরণ অতিরিক্ত ছিল এবং পরিস্থিতি তোলপাড়ের ছিল।
রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম এ ঘটনায় দাবি করেছেন, এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি। এক পুলিশ সদস্যের ভ্রু কেটে যাওয়ার ঘটনা উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে আইডি কার্ড না থাকার কারণে পুলিশ সদস্যরা ভুলবশত তাদের ওপর চড়াও হন। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।