ইফতারে বুকজ্বালা, যে অভ্যাসে মিলবে মুক্তি

ইফতারে বুকজ্বালা, যে অভ্যাসে মিলবে মুক্তি
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Md Ibrahim Sakib

পবিত্র রমজান মাসে ইবাদাতের সাথে বাহারি ইফতারি দিয়ে এই পবিত্র মাস উদযাপন করে বিশ্বের মুসলিমরা। সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের জন্য টেবিলে সাজানো থাকে নানা মুখরোচক খাবার। অনেকেই এসময় পেঁয়াজু, বেগুনি, চপ, জিলাপি আর ডুবো তেলে ভাজা লোভনীয় সকল মসলাদার খাবার একসঙ্গে অনেকটা বেশি খেয়ে ফেলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার পর হঠাৎ এই ভারী ও তৈলাক্ত খাবার পাকস্থলীতে পড়ার কারণে শুরু হয় অস্বস্তি, গ্যাস, বুকজ্বালা ও টক ঢেঁকুরের মতো সমস্যা।

চিকিৎসকদের মতে, রমজানে হজমের এই বিড়ম্বনা এড়াতে খাবার নির্বাচন ও খাওয়ার ধরনে পরিবর্তন আনা জরুরি। কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললেই ইফতার পরবর্তী বুকজ্বালা, নানা রকম অস্বস্তি থেকে সহজে মুক্তি মিলবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ দিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের আজকের আয়োজন। আসুন জেনে নেই কীভাবে ইফতারকে আমরা আরো বেশি স্বস্তির করে তুলতে পারি-

ইফতার হোক ধীরস্থির ও পরিমিত (egulo sob bold kore diyen)
পানি ও হালকা খাবার দিয়ে ইফতার শুরু করা উচিত। চিকিৎসকরা বলছেন, একসঙ্গে সব ভাজাপোড়া না খেয়ে ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়া উচিত। খাবার ভালো করে চিবানো হলে হজম সহজ হয় এবং পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরির ঝুঁকি কমে। দ্রুত খাওয়ার অভ্যাস গ্যাসের সমস্যা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

ভাজাপোড়া কমিয়ে স্বাস্থ্যকর বিকল্প
প্রতিদিন ইফতারের মেনুতে ডুবো তেলে ভাজা খাবার না রেখে বিকল্প হিসেবে সেদ্ধ ছোলা, তাজা ফল, সবজি স্যুপ কিংবা গ্রিল করা মুরগি বা মাছ রাখা যেতে পারে। অতিরিক্ত তেল ও ঝাল পাকস্থলীর ভেতরের আস্তরণে জ্বালাপোড়া তৈরি করে। খাবারে মসলা ও তেলের ব্যবহার যত কম হবে, শরীর তত সুস্থ থাকবে। ভাজাপোড়া খাবার শ্যালো ফ্রাই বা এয়ার ফ্রায়ারে তৈরি করা যেতে পারে। এটি খাবারে তেল প ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে।

পানিশূন্যতা রোধে সচেতনতা
সারাদিন পানি পান না করায় শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টাতে পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করতে হবে। তবে একবারে অনেক পানি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার পান করা হজমের জন্য সহায়ক। কার্বোনেটেড পানীয় বা অতিরিক্ত টক শরবতের বদলে ডাবের পানি বা সাধারণ পানি পান করা সবচেয়ে নিরাপদ।

খাওয়ার পরপরই বিশ্রামে সতর্কতা
ইফতারের পর ক্লান্তির কারণে অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়েন। এটি একটি মারাত্মক ভুল অভ্যাস। খাওয়ার পর অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সোজা হয়ে বসে থাকা বা হালকা হাঁটাহাঁটি করা উচিত। এতে পাকস্থলীর অ্যাসিড ওপরের দিকে উঠে আসার সুযোগ পায় না এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে।

সেহরির মেনুতেও আসুক পরিবর্তন
অ্যাসিডিটি মুক্ত থাকতে সেহরিতেও সচেতনতা জরুরি। প্রোটিন, আঁশযুক্ত খাবার এবং সহজপাচ্য খাদ্য যেমন ওটস, ডিম, কলা, দই ও সবজি রাখা উচিত। এসব খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং সারাদিন পেটে অস্বস্তি কমায়।

কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে?
যদি নিয়ম মেনে চলার পরও নিয়মিত বুকজ্বালা, গিলতে কষ্ট হওয়া, বমি বা তীব্র পেটব্যথা হয়, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ দীর্ঘদিনের অ্যাসিডিটি বড় কোনো শারীরিক সমস্যার সংকেত হতে পারে।

পবিত্র এই রমজান মাস মূলত সংযমের সময়। খাবারের ক্ষেত্রে এই সংযম বজায় রাখলে শরীর সুস্থ থাকবে এবং ইবাদতেও পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রতিদিনকার সামান্য এই সকল সচেতনতাই আমাদেরপকে ইফতার পরবর্তী প্রশান্তি এনে দিতে পারে।


সম্পর্কিত নিউজ