{{ news.section.title }}
জ্বালানির মজুত নিয়ে যে সুখবর দিলেন মন্ত্রী
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ঘিরে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দেশে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই সরকার বলছে-বাংলাদেশে তেল–সংকটের বাস্তব কোনো কারণ নেই, তবে অনিশ্চয়তার কারণে আপাতত “সতর্কতামূলক” রেশনিং চালু রাখা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বন্দরে তেলবাহী জাহাজ নোঙর করছে এবং আরও জাহাজ আসছে-ফলে মজুত আরও বাড়বে, কিন্তু যুদ্ধ কতদিন চলবে জানা না থাকায় সীমিত বিক্রি ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত আলোচনায় এবং গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, পেট্রোল পাম্পে গিয়ে বড় বড় লাইন দেখা যাচ্ছে, যা মূলত আতঙ্ক থেকে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতায় বাড়ছে। তিনি দাবি করেন, দেশে যে মজুত আছে তা সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করতেই রেশনিং নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গুজব বা “দাম বাড়বে” ধরনের প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না কিনতে জনগণকে আহ্বান জানান তিনি।
কেন রেশনিং-সরবরাহ “কম” নয়, চাপ “বেশি”
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় অনেক মানুষ ও কিছু ডিলার/ক্রেতা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল তুলতে চাচ্ছেন। এতে স্বাভাবিক সরবরাহ থাকলেও নির্দিষ্ট পাম্পে একদিনে বিক্রি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে-ফলে পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং লাইনের চাপ বাড়ছে। সরকার বলছে, এই অস্বাভাবিক চাহিদা নিয়ন্ত্রণে আনতেই রেশনিং এবং মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে।
রেশনিংয়ের সীমা কত-BPC যে নির্দেশনা দিয়েছে
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (BPC) গাড়ির ধরন অনুযায়ী দৈনিক সর্বোচ্চ জ্বালানি কেনার সীমা নির্ধারণ করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে-মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল/অকটেন নিতে পারবে, ব্যক্তিগত গাড়ি ১০ লিটার, এসইউভি/মাইক্রোবাস ২০–২৫ লিটার, পিকআপ ও লোকাল বাস ৭০–৮০ লিটার ডিজেল এবং দূরপাল্লার বাস/ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান/কনটেইনার ট্রাক ২০০–২২০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে।
শুধু সীমা বেঁধে দেওয়াই নয়-স্বচ্ছতা আনতে আরও কয়েকটি নিয়মও যুক্ত করা হয়েছে। যেমন, পাম্পকে রসিদ দিতে হবে (কোন তেল, কত লিটার, কী দামে-সব উল্লেখ থাকবে)। পরেরবার তেল নিতে গেলে আগের রসিদ দেখাতে হতে পারে-এভাবে বারবার অতিরিক্ত তেল তুলে মজুত করার সুযোগ কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাম্পগুলোকে ডিপোতে স্টক ও বিক্রির তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশও আছে।
“দুটি জাহাজ” ও আরও আমদানি-সরকার কী বলছে
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, জাহাজ নোঙরের পর মজুত বাড়বে এবং সংকটের সুযোগ নেই। ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে-সরকার বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো বাধা এলে সাপ্লাই ধরে রাখা যায়। একই প্রতিবেদনে BPC–এর এক কর্মকর্তার বরাতে উল্লেখ আছে, একটি তেলবাহী জাহাজে প্রায় ২৮০,০০০ টন ডিজেল আসছে এবং আরও একটি কার্গো (প্রায় ১,০০,০০০ টন) “পাইপলাইনে” আছে।
এ ছাড়া সেখানে বলা হয়েছে-দেশের মাসিক ডিজেল চাহিদা প্রায় ৩৮০,০০০ টনের বিপরীতে তৎকালীন স্টকে ১ লাখ টনের বেশি ডিজেল রয়েছে, যা মার্চ মাসের সরবরাহ পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়ক হবে।
সামনে কী হতে পারে-লাইন কমাতে করণীয়
সরকারি বক্তব্যের সারমর্ম হচ্ছে:
- দেশে তেল “ফুরিয়ে গেছে”-এমন নয়, বরং যুদ্ধ–অনিশ্চয়তায় অতিরিক্ত কেনা–বেচার চাপ তৈরি হয়েছে।
- তাই মজুত বাড়লেও রেশনিং এখনই উঠছে না-কারণ যুদ্ধের স্থায়িত্ব অনিশ্চিত।
- পাম্পে শৃঙ্খলা রাখতে মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট নামানোর কথাও বলা হয়েছে, যাতে কেউ কৃত্রিম সংকট/অতিরিক্ত উত্তোলন/নিয়মভাঙা বিক্রি করতে না পারে।
সাধারণ মানুষের জন্য বাস্তব পরামর্শ হলো-একবারে ট্যাংক “পূর্ণ” করার চেষ্টা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল কেনা, রসিদ সংরক্ষণ করা, এবং গুজবে কান না দিয়ে অফিসিয়াল আপডেট দেখা। এতে লাইনের চাপও দ্রুত কমতে পারে।