{{ news.section.title }}
এনআইডি ও ভোটার নিবন্ধন নিয়ে ইসির নতুন দুই পরিকল্পনা
নাগরিক পরিচয় যাচাই আরও শক্ত করতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় দুইটি বড় পরিবর্তনের কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এনআইডি ডেটাবেজে ব্যক্তির মূল নামের পাশাপাশি ‘ডাক নাম’ যুক্ত করা হতে পারে।
একই সঙ্গে ভোটার হওয়ার আবেদনপত্রে নিজ এলাকার একজন সম্মানিত ব্যক্তির সুপারিশ বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও আলোচনায় আছে।
ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ (এনআইডি উইং) জানায়, এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও এনআইডি ইস্যুতে জালিয়াতি কমানো, পরিচয় যাচাইকে আরও নির্ভুল করা এবং বিদেশি/অনুপ্রবেশকারীদের অবৈধভাবে ভোটার হওয়া ঠেকানো।
‘ডাক নাম’ যুক্ত হলে কী বদলাবে
ইসির ভাষ্য অনুযায়ী, বাস্তবে অনেক নাগরিক স্থানীয়ভাবে বা পারিবারিকভাবে ডাক নামেই বেশি পরিচিত-কিন্তু সরকারি নথিতে সেটি নিয়মিতভাবে সংরক্ষিত থাকে না বা সবসময় যাচাই প্রক্রিয়ায় আসে না। ফলে প্রতারকচক্র কখনও কখনও নামের ভিন্নতা, বানানের সামান্য পরিবর্তন, বা পরিচিতির ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে পরিচয় গোপনের চেষ্টা করতে পারে। ‘ডাক নাম’ ডেটাবেজে যুক্ত করা গেলে একই ব্যক্তিকে বিভিন্ন পরিচয়ে উপস্থাপন করার সুযোগ কমবে-এমনটাই ইসির যুক্তি।
এখানে আরেকটি ব্যবহারিক দিকও আছে। অনেক সময় পুলিশি যাচাই, ব্যাংকিং/সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কেওয়াইসি (KYC), কিংবা স্থানীয় পর্যায়ের প্রশাসনিক যাচাইয়ে লোকাল আইডেন্টিফিকেশন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ‘ডাক নাম’ যুক্ত থাকলে একই ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে মাঠ পর্যায়ের যাচাই প্রক্রিয়া কিছু ক্ষেত্রে সহজ হতে পারে-এমন সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় আসে।
ভোটার নিবন্ধনে ‘সম্মানিত ব্যক্তির সুপারিশ’-কেন ভাবছে ইসি
ইসি বলছে, বিদেশি নাগরিক বা রোহিঙ্গাসহ অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার হওয়া ঠেকাতে ফরম–২ (ভোটার নিবন্ধন ফরম)-এ স্থানীয়ভাবে পরিচিত একজন “সম্মানিত ব্যক্তির” সুপারিশের জন্য আলাদা ঘর যুক্ত করার চিন্তা আছে। যুক্তি হলো-একজন স্থানীয়ভাবে পরিচিত ব্যক্তি (যিনি এলাকায় মর্যাদাসম্পন্ন/পরিচিত) আবেদনকারী সত্যিই ওই এলাকার বাসিন্দা কি না, সেটি জানার সুযোগ রাখেন; ফলে ভুয়া ঠিকানা বা পরিচয় দেখিয়ে নিবন্ধনের পথ কঠিন হবে।
ফরম–২ বর্তমানে ভোটার নিবন্ধনের মূল নথি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, এবং ইসি বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ফরম/প্রক্রিয়া হালনাগাদ করে থাকে।
মাঠপর্যায়ে প্রভাব: সম্ভাব্য সুবিধা ও উদ্বেগ
এই দুই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ভোটার নিবন্ধনে মাঠপর্যায়ের যাচাই আরও বহুস্তরীয় হতে পারে-যা জালিয়াতি কমাতে সহায়ক। কিন্তু একই সঙ্গে কয়েকটি বাস্তব প্রশ্নও উঠে আসে:
১) সুপারিশের মানদণ্ড কী হবে?
“সম্মানিত ব্যক্তি” বলতে কারা-শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, সমাজকর্মী, ব্যবসায়ী নেতা, নাকি অন্য কেউ-এটা স্পষ্ট না হলে মাঠে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
২) প্রান্তিক মানুষের ভোগান্তি হবে কি না
অতি দরিদ্র, ভাসমান, বা নতুন এলাকায় বসবাস শুরু করা মানুষদের ক্ষেত্রে “স্থানীয় সুপারিশ” জোগাড় করা কঠিন হতে পারে-এই আশঙ্কা থেকেই যায়।
৩) অপব্যবহার/ঘুষ–ঝুঁকি
সুপারিশ বাধ্যতামূলক হলে কেউ কেউ এটিকে প্রভাব খাটানোর মাধ্যম বানাতে পারে-এই ঝুঁকি কমাতে ইসিকে সুপারিশকারীর যোগ্যতা, দায়বদ্ধতা এবং যাচাই প্রক্রিয়া খুব পরিষ্কার করতে হবে।
ইসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, উদ্দেশ্য হলো স্বচ্ছতা বাড়ানো ও জালিয়াতি কমানো; তবে বাস্তবায়নে নীতিমালা কেমন হবে, কারা সুপারিশ দিতে পারবেন, এবং আপত্তি/আপিলের সুযোগ থাকবে কি না-এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা ছাড়া মাঠে চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।
এখন কী পর্যায়
এ মুহূর্তে বিষয়গুলো “পরিকল্পনা/ভাবা হচ্ছে” পর্যায়ে আছে-অর্থাৎ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গেলে ফরম, সফটওয়্যার/ডেটাবেজ, যাচাই নির্দেশনা এবং মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ-সবকিছুতে আপডেট লাগবে। ইসি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ফরম সংশোধন ও প্রক্রিয়াগত আপডেটের দিকেই তারা এগোচ্ছে।