{{ news.section.title }}
কমলো স্বর্ণের দাম, দেখুন আজকের বাজার দর
দেশের স্বর্ণবাজারে গত এক সপ্তাহে দামের উল্লেখযোগ্য ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দামের পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও।
এসববিষয় বিবেচনা করে কয়েক দফাস্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছেবাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সিদ্ধান্তঅনুযায়ী আবারও কমানো হয়েছে স্বর্ণের দাম, যা সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ১০টা থেকেকার্যকর হয়েছে।
বাজুসেরপ্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এবার প্রতি ভরিস্বর্ণের দাম ৩ হাজার২৬৬ টাকা কমানো হয়েছে।নতুন দামে দেশের বাজারে২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪গ্রাম) স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮টাকা।
নতুনমূল্য তালিকা অনুযায়ী -
- ২২ ক্যারেট স্বর্ণ: প্রতি ভরি ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা
- ২১ ক্যারেট স্বর্ণ: প্রতি ভরি ২ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৬ টাকা
- ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ: প্রতি ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৭৫ টাকা
- সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ: প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৩ টাকা
বাজুসজানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ারকারণে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই নতুনমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংস্থাটিনিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় পরিস্থিতিপর্যবেক্ষণ করে স্বর্ণের দামসমন্বয় করে থাকে।
গতএক সপ্তাহে স্বর্ণের দামের ওঠানামা
স্বর্ণব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহেদেশের বাজারে স্বর্ণের দামে কয়েকবার পরিবর্তনএসেছে। মার্চের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণেদেশের বাজারেও দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তনেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়েআন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য দরপতন এবং স্থানীয় বাজারেতেজাবি স্বর্ণের মূল্য কমে যাওয়ায় আবারওদাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাজুস।
বিশেষকরে ২ মার্চের পরথেকে বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখীছিল। পরে সপ্তাহের মাঝামাঝিআন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় স্থানীয়বাজারেও মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায়সোমবার নতুন দামে স্বর্ণবিক্রি শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব
বিশ্ববাজারেস্বর্ণের দাম মূলত ডলার, সুদের হার এবং ভূরাজনৈতিকপরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেওঠানামা করে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিকবাজারে তেলের দাম ও মধ্যপ্রাচ্যেরউত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অনেকবিনিয়োগকারী নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন, যারপ্রভাব বিশ্ববাজারে পড়ছে।
তবেবাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারেস্বর্ণের দাম সাময়িকভাবে ওঠানামাকরলেও দীর্ঘমেয়াদে তা স্থিতিশীল থাকারসম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতি
দেশেরস্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, দামের পরিবর্তনের কারণে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা তৈরি হয়েছে। দামবাড়লে সাধারণ ক্রেতারা স্বর্ণ কেনা কমিয়ে দেন, আবার দাম কমলে বাজারেক্রেতাদের আগ্রহ বাড়তে দেখা যায়।
ঢাকারকয়েকটি জুয়েলারি দোকানের ব্যবসায়ীরা জানান, বিয়ের মৌসুম এবং বিভিন্ন পারিবারিকঅনুষ্ঠানের কারণে স্বর্ণের চাহিদা সাধারণত স্থির থাকে। তবে দামের দ্রুতপরিবর্তন হলে অনেক ক্রেতাকিছুদিন অপেক্ষা করে পরে কেনারসিদ্ধান্ত নেন।
স্বর্ণের সঙ্গে অতিরিক্ত খরচ
স্বর্ণেরনির্ধারিত দামের সঙ্গে গ্রাহকদের আরও কিছু খরচযুক্ত হয়। বাজুস নির্ধারিতদামের বাইরে স্বর্ণের গয়না কিনতে গেলেভ্যাট, মজুরি (মেকিং চার্জ) এবং অন্যান্য খরচযুক্ত হয়। ফলে গয়নারচূড়ান্ত দাম আরও কিছুটাবেশি হতে পারে।
বর্তমানেসরকার নির্ধারিত ভ্যাটসহ স্বর্ণের গয়না কেনার ক্ষেত্রেক্রেতাদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতেহয়। তাই বাজুস ঘোষিতদামের সঙ্গে দোকানভেদে চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়।
সামনে যা হতে পারে
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তননা হলে আপাতত স্বর্ণেরদাম খুব বেশি বাড়ারসম্ভাবনা নেই। তবে বিশ্বঅর্থনীতি, ডলারের মূল্য এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিকপরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেভবিষ্যতে আবারও দাম সমন্বয় করাহতে পারে।
বাজুসজানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং স্থানীয় বাজারেতেজাবি স্বর্ণের দাম পর্যবেক্ষণ করেপ্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতেও স্বর্ণের দাম সমন্বয় করাহবে। তাই ক্রেতা ওব্যবসায়ীদের সর্বশেষ মূল্য সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।