জ্বালানি নিয়ে বড় সুসংবাদ বাংলাদেশের জন্য

জ্বালানি নিয়ে বড় সুসংবাদ বাংলাদেশের জন্য
ছবির ক্যাপশান, তেলবাহী জাহাজ । ছবি: সংগৃহীত
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Showanur Rahman

বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সমুদ্রপথে আসা জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের জলসীমায় একাধিক জ্বালানিবাহী জাহাজ অবস্থান করছে এবং এর মধ্যে কয়েকটি জাহাজ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি খালাসের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে বন্দরের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।

বুধবার (১১ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড সদস্য কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, বর্তমানে মোট ১০টি জ্বালানিবাহী জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় অবস্থানরত ছয়টি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাসের কার্যক্রম চলছে।

কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ জানান, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হওয়ায় দেশের অধিকাংশ জ্বালানি আমদানি এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এ কারণে জ্বালানি সরবরাহে যাতে কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটে, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বন্দরের বিভিন্ন ইউনিট এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় রেখে দ্রুততার সঙ্গে জ্বালানি খালাস করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বন্দরের পথে থাকা আরও চারটি জ্বালানিবাহী জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এসব জাহাজের মধ্যে দুটিতে রয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং বাকি দুটি জাহাজে রয়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও গ্যাসোলিন। এসব জাহাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বন্দরে পৌঁছালে পর্যায়ক্রমে সেগুলো থেকেও জ্বালানি খালাস করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হয়েছে। জ্বালানি খালাসের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট জেটি ও টার্মিনালগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বন্দর সূত্র জানায়, জ্বালানি খালাসের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে জাহাজ আগমন, নোঙর এবং খালাস প্রক্রিয়ায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। যাতে জাহাজগুলো দীর্ঘ সময় বন্দরের বাইরে অপেক্ষা না করে এবং দ্রুত পণ্য খালাস করে পরবর্তী গন্তব্যে যেতে পারে।

এদিকে জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুমাত্রিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙর এলাকায় অবস্থানরত জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং বন্দর নিরাপত্তা ইউনিট একযোগে দায়িত্ব পালন করছে। জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত টহল, নজরদারি এবং পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো সাধারণত বহিঃনোঙরে অবস্থান করার পর পর্যায়ক্রমে জেটিতে নিয়ে আসা হয় এবং সেখানে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় জ্বালানি খালাস করা হয়। এরপর পাইপলাইন বা ট্যাংকারের মাধ্যমে এসব জ্বালানি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহেও জ্বালানি আমদানির কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। এই সময়ে মোট আটটি জ্বালানিবাহী জাহাজ জ্বালানি খালাস সম্পন্ন করে চট্টগ্রাম বন্দর ত্যাগ করেছে। এসব জাহাজ থেকে আমদানি করা জ্বালানি দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা এবং বিভিন্ন খাতে সরবরাহ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পখাত এবং পরিবহন ব্যবস্থার একটি বড় অংশ জ্বালানিনির্ভর হওয়ায় নিয়মিত জ্বালানি আমদানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলএনজি, এলপিজি ও বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও তা দেশের অর্থনীতি ও শিল্প কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।

এ কারণে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বন্দর কর্তৃপক্ষ, জ্বালানি বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় এখানে জ্বালানিবাহী জাহাজের আগমন ও খালাস কার্যক্রম বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামীতেও জ্বালানি আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জাহাজ ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা এবং খালাস কার্যক্রম আরও আধুনিক করার বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ