স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন, এবার ভরি কত?

স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন, এবার ভরি কত?
ছবির ক্যাপশান, দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম | সংগৃহীত

দেশের স্বর্ণবাজারে টানা কয়েকদিনের ওঠানামার পর আবারও দামের পরিবর্তন এসেছে। টানা দুই দফা দাম বাড়ানোর পর এবার স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভালো মানের ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী আজ সকাল ১০টা থেকে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) বিক্রি হবে ২ লাখ ৬৭ হাজার ১০৬ টাকায়।

আজকের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম

বাজুস ঘোষিত নতুন দর অনুযায়ী দেশের বাজারে বিভিন্ন মানের স্বর্ণের দাম নিম্নরূপ-

  • ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২,৬৭,১০৬ টাকা
  • ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি প্রায় ২,৫৫,০০০ টাকার কাছাকাছি
  • ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি প্রায় ২,১৯,০০০ টাকার বেশি
  • সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি প্রায় ১,৭৯,০০০ টাকার বেশি

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কিছুটা কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন করে স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

গতকাল স্বর্ণের দাম কত ছিল

নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগে অর্থাৎ গতকাল দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও বেশি ছিল। বুধবার বাজুস টানা দ্বিতীয় দিনের মতো স্বর্ণের দাম বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করেছিল ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা।

অর্থাৎ মাত্র একদিনের ব্যবধানে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমানো হয়েছে।

কয়েকদিন আগের বাজার পরিস্থিতি

স্বর্ণের বাজারে গত কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিক ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। এর আগে গত সপ্তাহের শুরুতে বাজুস স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা প্রতি ভরি।

এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে দামের পরিবর্তন এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ানো হয়। ফলে কয়েকদিনের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার ঘরেও পৌঁছে যায়।

তবে সর্বশেষ ঘোষণায় আবার কিছুটা কমে এসে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকার কিছু বেশি।

কেন ওঠানামা করছে স্বর্ণের দাম

স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দামের পরিবর্তন, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য-এই তিনটি বিষয় মূলত দেশের স্বর্ণের দামের ওপর প্রভাব ফেলে।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়লে বা কমলে তার প্রভাব দ্রুতই বাংলাদেশের বাজারে পড়ে। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের সরবরাহ ও চাহিদার অবস্থাও দামের পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

ক্রেতাদের ওপর প্রভাব

স্বর্ণের দাম ঘন ঘন পরিবর্তনের কারণে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিয়ে বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য যারা স্বর্ণ কিনতে চান, তারা বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদ ও বিয়ের মৌসুম সামনে থাকায় স্বর্ণের চাহিদা বাড়তে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দামে একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

বাজার পর্যবেক্ষণে ব্যবসায়ীরা

স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মতে, স্বর্ণের বাজার বর্তমানে খুবই সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। তাই বাজুস নিয়মিত বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দাম সমন্বয় করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ কেনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ-এসব কারণেও স্বর্ণের দাম দ্রুত ওঠানামা করছে।

ফলে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দামে আগামী দিনগুলোতে আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সম্পর্কিত নিউজ