স্পিকার-ডেপুটি না থাকলে সংসদ চালাতে পারবেন মির্জা আব্বাস-আজহার সহ ৫ জন

স্পিকার-ডেপুটি না থাকলে সংসদ চালাতে পারবেন মির্জা আব্বাস-আজহার সহ ৫ জন
ছবির ক্যাপশান, মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ও এটিএম আজহারুল ইসলাম
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
  • লেখক, Showanur Rahman

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংসদের কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের একটি সভাপতিমণ্ডলী বা প্যানেল স্পিকার মনোনীত করা হয়েছে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদ অধিবেশন পরিচালনার জন্য এই প্যানেল সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এই পাঁচ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন। সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার কোনো কারণে অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে না পারলে এই প্যানেল সদস্যদের মধ্য থেকে একজন সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

সংসদের কার্যক্রম সচল রাখতে প্যানেল স্পিকার

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, সংসদের প্রতিটি অধিবেশন শুরু হওয়ার সময় একটি সভাপতিমণ্ডলী মনোনীত করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো, কোনো কারণে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে সংসদের কার্যক্রম যেন থেমে না যায়।

এই বিধান অনুযায়ী মনোনীত প্যানেল স্পিকাররা ক্রমানুসারে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে পারেন। অর্থাৎ তালিকায় যাঁর নাম আগে থাকবে, তিনি প্রথমে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন।

স্পিকার অধিবেশনে জানান, সংসদীয় গণতন্ত্রে সংসদের কার্যক্রম নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে এই সভাপতিমণ্ডলী গঠন করা সংসদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া।

যাঁরা প্যানেল স্পিকার হিসেবে মনোনীত

স্পিকারের ঘোষণায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে পাঁচজন সংসদ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন-

  • মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ (ঢাকা–৮)
  • গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা–২)
  • ড. আব্দুল মঈন খান (নরসিংদী–১)
  • মোহাম্মদ মনিরুল হক চৌধুরী (কুমিল্লা–৬)
  • এটিএম আজহারুল ইসলাম (রংপুর–২)

এই পাঁচজন সংসদ সদস্য প্রয়োজন অনুযায়ী স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন এবং সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।

দায়িত্ব পালনের নিয়ম

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অধিবেশনে বলেন, সভাপতিমণ্ডলীর তালিকায় যাঁর নাম প্রথমে থাকবে, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে তিনিই স্পিকারের আসনে বসে অধিবেশন পরিচালনা করবেন।

তবে যদি তালিকার প্রথম ব্যক্তি কোনো কারণে উপস্থিত না থাকেন, তাহলে তালিকায় পরবর্তী নাম অনুযায়ী অন্য সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণভাবে সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুসারে পরিচালিত হয়।

সংসদ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি সংসদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ সংসদ অধিবেশন চলাকালে কখনো কখনো স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারকে অন্য রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে হয় বা কোনো কারণে অনুপস্থিত থাকতে পারেন। তখন প্যানেল স্পিকারদের মাধ্যমে সংসদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।

সংসদীয় গণতন্ত্রে এর গুরুত্ব

সংসদীয় ব্যবস্থায় স্পিকার সংসদের সর্বোচ্চ নিরপেক্ষ পদগুলোর একটি। তিনি সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা, সদস্যদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নির্ধারণ, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

কিন্তু সংসদের কার্যক্রম যাতে কোনোভাবেই বন্ধ না হয়, সে কারণেই প্যানেল স্পিকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে সংসদ পরিচালনার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং জরুরি আইন বা আলোচনার কাজ থেমে যায় না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যবস্থা সংসদের কার্যকর পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংবিধানিক কাঠামো।

প্রথম দিনের অধিবেশনের প্রেক্ষাপট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দিনের অধিবেশনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং তাদের দায়িত্ব গ্রহণ ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং ডেপুটি স্পিকার হয়েছেন কায়সার কামাল। তাদের নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর সংসদের নিয়ম অনুযায়ী সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়।

এর মাধ্যমে সংসদের সাংগঠনিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পূর্ণতা পায় এবং অধিবেশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।

সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, প্রতিটি অধিবেশনের শুরুতেই এই প্যানেল স্পিকার মনোনীত করা হয়। এটি সংসদের একটি নিয়মিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, যা দীর্ঘদিন ধরে সংসদীয় ব্যবস্থার অংশ হিসেবে চালু রয়েছে।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, ভবিষ্যতে অধিবেশন চলাকালে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে এই পাঁচ সদস্যের মধ্য থেকে কেউ একজন সংসদের অধিবেশন পরিচালনা করবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যবস্থা সংসদকে আরও কার্যকর ও গতিশীল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


সম্পর্কিত নিউজ