{{ news.section.title }}
আজ থেকে জ্বালানি তেলের রেশনিং তুলে নিল সরকার
দেশে জ্বালানি তেলের রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। রবিবার (১৫ মার্চ) থেকে আগের মতো স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ ও বিক্রি চলবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর গুলিস্তানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, গণপরিবহনসহ সব ধরনের যানবাহনের জন্য জ্বালানি তেলের ওপর আর কোনো রেশনিং থাকছে না। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের মতোই স্বাভাবিক নিয়মে তেল সরবরাহ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সামনে ঈদুল ফিতরকে ঘিরে মানুষের যাতায়াত বাড়বে। ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং পণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে পরিবহন খাতের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে ইরানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে গত ৬ মার্চ থেকে সরকার রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে। ওই সময় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনতে শুরু করেন। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সীমিত পরিমাণে জ্বালানি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়।
রেশনিং চালুর সময় সরকারের নির্দেশনায় বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্য আলাদা সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে দৈনিক ২ লিটার তেল দেওয়ার কথা বলা হয়। স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল (এসইউভি) ও মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার পর্যন্ত তেল বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।
এ ছাড়া পিকআপ ভ্যান বা লোকাল বাসের জন্য দৈনিক ৭০ থেকে ৮০ লিটার তেল সরবরাহের সীমা নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাকের জন্য প্রতিদিন ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে এই রেশনিং ব্যবস্থা আংশিক শিথিল করা হয়। বিশেষ করে রাইড শেয়ারিং চালকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে মোটরসাইকেলের জ্বালানির সীমা ২ লিটার থেকে বাড়িয়ে ৫ লিটার করা হয়।
এ ছাড়া সামগ্রিকভাবে জ্বালানি তেলের রেশনিং ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছিল। তবে এখন ঈদের আগে মানুষের যাতায়াতের চাপ বাড়তে পারে বিবেচনায় নিয়ে সরকার পুরোপুরি রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বিভিন্ন জ্বালানি স্টেশনে তেল সরবরাহ ও বিক্রি আগের মতোই স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে পরিবহন খাতের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াতও সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।