{{ news.section.title }}
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহী আলজেরিয়া
বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আব্দেলৌহাব সাইদানী। দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে বলেও তিনি মনে করেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাজধানীতে অবস্থিত আলজেরিয়া দূতাবাসে দেশটির ‘বিজয় দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আলজেরিয়ার জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে ১৯৬২ সালের ১৯ মার্চের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং ওই সময়কার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এদিন আলজেরীয় প্রজাতন্ত্রের অস্থায়ী সরকারের প্রেসিডেন্ট বেনইউসেফ বেনখেদ্দা ‘এভিয়ান চুক্তির’ পর সমগ্র আলজেরিয়ায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, যার মাধ্যমে দীর্ঘ আট বছরের সশস্ত্র সংগ্রামের অবসান ঘটেছিল।
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপই ১৯৬২ সালের ৫ জুলাই আলজেরিয়ার স্বাধীনতার পথ সুগম করে। একটি গণভোটের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সম্মতিতে সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই যুদ্ধবিরতি ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে আলজেরিয়ার জনগণ ও ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের অসীম ত্যাগের চূড়ান্ত ফল।
তিনি আরও বলেন, আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রাম আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্ব পেয়েছিল এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে উপনিবেশমুক্তির একটি বড় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। সামরিক প্রতিরোধের পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ফ্রান্সের সঙ্গে আলোচনার পথ সুগম হয় এবং শেষ পর্যন্ত এভিয়ান চুক্তি বাস্তবায়িত হয়।
স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, শিক্ষা ও সামাজিক খাতে অগ্রযাত্রার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি ‘নতুন আলজেরিয়া’ গঠনে এসব অর্জনের গুরুত্বও উল্লেখ করেন।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মুক্তি আন্দোলনে আলজেরিয়ার ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন তিনি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিতে দেশটির অব্যাহত প্রচেষ্টার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, মার্চ মাস আলজেরিয়া ও বাংলাদেশ-দুই দেশের জন্যই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আলজেরিয়ার বিজয় দিবস ১৯ মার্চ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ; যা উভয় দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রতীক।
রাষ্ট্রদূত স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালে আলজেরিয়াই প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। এটিই দুই দেশের মধ্যে দৃঢ় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের ভিত্তি স্থাপন করে।
শেষে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।