{{ news.section.title }}
ঈদের দিনেও কমলো স্বর্ণের দাম
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার স্বর্ণের স্পট দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৬৩ দশমিক ৬৪ ডলারে নেমে আসে। একই দিনে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারসও ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৭৪ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়ায়।
এর আগে দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছিল, কিন্তু পরে বাজারের ধারা দ্রুত উল্টো পথে ঘুরে যায়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পতনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল শক্তিশালী মার্কিন ডলার।
ডলার কেন হঠাৎ শক্তিশালী হলো
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে-এমন প্রতিবেদনের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে ঝুঁকি-ধারণা তৈরি হয়। এর ফলে ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং মার্কিন ট্রেজারি ইয়িল্ডও ওপরে ওঠে। সাধারণত বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝোঁক বাড়ার কথা থাকলেও এবার বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। কারণ বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, সংঘাত দীর্ঘ হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে, আর তাতে মূল্যস্ফীতি নতুন করে চাপে ফেলতে পারে অর্থনীতিকে।
তেলের বাজারের সঙ্গে স্বর্ণের দামের সম্পর্ক
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়ে যায়, যা পরে মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলে। বাজার এখন সেই আশঙ্কাই হিসাব করছে। রয়টার্সের আগের প্রতিবেদন বলছে, ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার অপরিবর্তিত রাখলেও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি পুরোপুরি কমেনি। বরং জ্বালানি-চালিত নতুন চাপ তৈরি হলে সুদহার কমানোর সম্ভাবনা আরও পিছিয়ে যেতে পারে। এই অবস্থায় স্বর্ণ, যা কোনো সুদ দেয় না, তা তুলনামূলক কম আকর্ষণীয় হয়ে পড়ে।
কেন সুদের হার স্বর্ণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
স্বর্ণকে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এর একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো-এতে সুদ পাওয়া যায় না। ফলে যখন বাজারে ধারণা তৈরি হয় যে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচু থাকবে, তখন অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণের বদলে ডলার, বন্ড বা সুদ-আয়কারী অন্যান্য সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। রয়টার্স জানিয়েছে, বাজার এখন মনে করছে যে যুক্তরাষ্ট্র, এমনকি ইউরোপেরও কিছু কেন্দ্রীয় ব্যাংক, মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে পারে। এই কারণেও স্বর্ণের ওপর চাপ বাড়ছে।
সাম্প্রতিক পতন কতটা বড়
সাম্প্রতিক কয়েক দিনের ধারা দেখলে বোঝা যায়, এটি কেবল এক দিনের পতন নয়; বরং স্বর্ণবাজারে ধারাবাহিক চাপ তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের ১৮ ও ১৯ মার্চের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, স্বর্ণের দাম একাধিক সেশনে নেমে এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়। ১৯ মার্চ স্পট গোল্ড ৪ হাজার ৬১২ ডলারের কাছাকাছি নেমে গিয়েছিল, আর ১৮ মার্চ তা ৪ হাজার ৮৬০ ডলারের নিচে নেমে যায়। শুক্রবারের ১ দশমিক ৮ শতাংশ দরপতন সেই দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
এখন বিনিয়োগকারীরা কী দেখছেন
বাজার এখন তিনটি বিষয় খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে-মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কতটা দীর্ঘায়িত হয়, তেলের দাম আর কতদূর যায়, এবং ফেডের সুদহার নীতি কতটা কঠোর থাকে। এই তিনটির যেকোনো একটিতে নতুন পরিবর্তন এলে স্বর্ণের বাজারেও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ডলার শক্তিশালী থাকলে এবং সুদহার বাড়ার বা উচ্চ পর্যায়ে আটকে থাকার শঙ্কা বজায় থাকলে স্বর্ণের ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে পরিস্থিতি উল্টো হলে-অর্থাৎ ডলার কিছুটা নরম হলে বা সুদহার কমানোর পরিষ্কার ইঙ্গিত এলে-স্বর্ণ আবার ঘুরে দাঁড়াতেও পারে।
সাধারণ বিনিয়োগকারীর জন্য এর মানে কী
এই মুহূর্তে স্বর্ণবাজারে মূল সংকেত হলো অস্থিরতা। দামে ওঠানামা দ্রুত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিটি বড় ভূরাজনৈতিক খবর এখন সরাসরি স্বর্ণের দামে প্রতিফলিত হচ্ছে। তাই স্বর্ণে বিনিয়োগ করতে চাইলে এখন কেবল নিরাপদ সম্পদ হিসেবে নয়, বরং সুদহার, ডলার সূচক এবং তেলের বাজার-সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।