{{ news.section.title }}
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় পতন, বাংলাদেশে কী অবস্থা?
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে আবারও বড় ধাক্কা লেগেছে। সোমবার লেনদেনের এক পর্যায়ে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০০ ডলারের ঘরে নেমে আসে। এতে গত কয়েক দিনের টানা দরপতন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই নিম্নমুখী ধারা শুধু বিনিয়োগকারীদেরই নাড়া দেয়নি, এর প্রভাব ইতোমধ্যে বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারেও পড়েছে। গত সপ্তাহেই বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি, বাজুস, এক দিনেই দুই দফায় সোনার দাম কমাতে বাধ্য হয়।
গোল্ডপ্রাইসের তথ্যমতে, বাংলাদেশ সময় সোমবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ২৭৩ ডলার কমে ৪ হাজার ২১৮ ডলারে নেমে আসে। এর ঠিক এক দিন আগে এই দাম ছিল ৪ হাজার ৪৯৪ ডলার। অর্থাৎ মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বাজারে বড় ধরনের সংশোধন দেখা গেছে। রয়টার্সের তথ্যও একই প্রবণতা দেখাচ্ছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সোমবার সেশনের মধ্যে স্পট গোল্ড এক পর্যায়ে ৪,০৯৭.৯৯ ডলারে নেমে যায়, পরে কিছুটা সামলে ৪,২০৩.২১ ডলারে দাঁড়ায়।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে বড় ধস
দরপতনের গভীরতা বোঝার জন্য গত এক সপ্তাহের চিত্রই যথেষ্ট। ১৪ মার্চ প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ৫ হাজার ২০ ডলার। সেই হিসাবে মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে আউন্সপ্রতি সোনার দাম কমেছে ৮০২ ডলার। রয়টার্স আরও বলছে, সাম্প্রতিক ১০ সেশনে সোনার দাম মোটামুটি ২২ শতাংশ পর্যন্ত নেমে গেছে। ফলে বাজারে এখন কেবল সাময়িক ওঠানামা নয়, বরং বড় ধরনের পুনর্মূল্যায়ন চলছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
কেন নামছে সোনার দাম
বিশ্লেষকদের মতে, এই দরপতনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ শক্তিশালী মার্কিন ডলার, উচ্চ জ্বালানি দাম এবং সুদহার নিয়ে নতুন আশঙ্কা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। বাজার এখন ধরে নিচ্ছে, এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ দ্রুত সুদ কমাবে না; বরং কঠোর অবস্থান আরও দীর্ঘ হতে পারে। সোনা যেহেতু সুদবিহীন সম্পদ, তাই ডলার ও সুদ-আয়কারী সম্পদের তুলনায় এর আকর্ষণ কমে যায়। রয়টার্সের ধারাবাহিক কয়েকটি প্রতিবেদনে এই কারণগুলোই দরপতনের প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানুয়ারির রেকর্ড থেকে অনেক নিচে
চলতি বছরের শুরুতে অবশ্য সোনার বাজারে ছিল সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। জানুয়ারির শেষ দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জানুয়ারি প্রতি আউন্স দাম ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে উঠেছিল। রয়টার্সের হিসাবে ২৯ জানুয়ারির সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ৫,৫৯৪.৮২ ডলার। সেই উচ্চতা থেকে এখন বাজার অনেকটাই নিচে নেমে এসেছে।
দেশের বাজারেও বড় সমন্বয়
আন্তর্জাতিক দরপতনের প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও স্পষ্ট। গত বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, বাজুস এক দিনেই দুই দফায় সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দেয়। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই দফায় প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৩৩৮ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়। জাগো নিউজের ইংরেজি সংস্করণে প্রকাশিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নেমে এসেছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশে আজও এই নির্ধারিত দরেই সোনা কেনাবেচা হচ্ছে।
রুপার দামও কমেছে
সোনার সঙ্গে রুপার দামেও সমন্বয় আনা হয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর পতনের প্রভাব দুই ক্ষেত্রেই পড়েছে।
দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামের স্মৃতি
বাংলাদেশের বাজারে এই পতন আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ জানুয়ারির শেষ দিকে সোনার দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস এক ধাপে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়েছিল। তাতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হিসেবে আলোচিত হয়। এখনকার দর সেই রেকর্ড উচ্চতার তুলনায় অনেকটাই কম।
সামনে যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে
বাজার এখনো অস্থির। ডলারের অবস্থান, তেলের দাম, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং ফেডের সুদহার নীতি-এই চারটি বিষয় এখন সোনার বাজারকে চালিত করছে। যদি ডলার আরও শক্তিশালী হয় এবং সুদহার উচ্চ পর্যায়ে থাকে, তাহলে সোনার ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বিপরীতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হলে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার চাহিদা আবারও বাড়তে পারে। ফলে বাজার এখনো স্থিতিশীল হয়নি; বরং বড় ওঠানামার ঝুঁকির মধ্যেই আছে।