{{ news.section.title }}
বিমানের জ্বালানি তেলের দাম কত শতাংশ বাড়ল?
বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দামে বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), যা ইতোমধ্যে এভিয়েশন খাতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতি এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জরুরি ভিত্তিতে ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে বিইআরসি। বৈঠকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি), পদ্মা অয়েল কোম্পানি এবং কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দেশের জ্বালানি বাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক মূল্য প্রবণতা এবং সরবরাহ ব্যয়ের বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম লিটারপ্রতি ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি। একইভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে প্রতি লিটার ০.৭৩৮৪ মার্কিন ডলার ছিল, তা বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রায় ৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
বিইআরসির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই নতুন মূল্য মধ্যরাত থেকে কার্যকর হবে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে, যার প্রভাব টিকিটের দামেও পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের চলমান উত্তেজনা এবং অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা জেট ফুয়েলের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের খরচও স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।
এদিকে এভিয়েশন খাতের সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, হঠাৎ করে এত বড় পরিমাণে মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের যাত্রীসংখ্যা কমে যেতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুটেও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে এয়ারলাইন্সগুলোকে নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করতে হতে পারে।
তবে সরকারি মহল থেকে বলা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে জেট ফুয়েলের দাম তুলনামূলক কম রাখা হয়েছিল। বর্তমান বাজার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতেই এই সমন্বয় করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল হলে মূল্য পুনর্বিবেচনার সুযোগও থাকতে পারে।