১৮ বছর পর প্যারেড স্কয়ারে ফিরল স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ, রাষ্ট্রপতির সালাম গ্রহণ

১৮ বছর পর প্যারেড স্কয়ারে ফিরল স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ, রাষ্ট্রপতির সালাম গ্রহণ
ছবির ক্যাপশান, ১৮ বছর পর প্যারেড স্কয়ারে ফিরল স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ

দীর্ঘ ১৮ বছর পর রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আবারও আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও সামরিক সক্ষমতার দৃশ্যমান প্রদর্শনীতে পরিণত হওয়া এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয় সশস্ত্র বাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, পিএসসি, জি (অব.) এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত থেকে রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বৈদেশিক কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নির্দেশনায় এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, ৯ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, সাভার এরিয়া মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক, এনডিসি, পিএসসি। প্যারেড উপ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ৭১ মেকানাইজড ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাফকাত-উল-ইসলাম, এসপিপি (বার), এএফডব্লিউসি, পিএসসি।

এই কুচকাওয়াজে বিভিন্ন বাহিনীর সর্বমোট ২৫টি কন্টিনজেন্ট অংশ নেয় এবং রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদান করে। কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী সম্মিলিত যান্ত্রিক বহরের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ৯ আর্টিলারি ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনোয়ার উজ জামান, পিপিএম, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জি।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সুসজ্জিত সামরিক যানবাহনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণ। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদান অনুষ্ঠানকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। একই সঙ্গে কুচকাওয়াজে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিক সমরাস্ত্রও প্রদর্শন করা হয়।

আকাশপথে আর্মি এভিয়েশন, নেভাল এভিয়েশন, বিজিবি এয়ার উইং ও র‍্যাব ফোর্সেসের ফ্লাইপাস্ট দর্শকদের দৃষ্টি কেড়ে নেয়। পাশাপাশি প্যারা কমান্ডো সদস্যদের দুঃসাহসিক ফ্রিফল জাম্প অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। এরপর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর মনোমুগ্ধকর ফ্লাইপাস্ট ও এরোবেটিক প্রদর্শনী আয়োজনকে ভিন্নমাত্রা দেয়। এই অংশের নেতৃত্ব দেন বিমান বাহিনীর এয়ার কমোডর মেহেদী হাসান, জিইউপি, পিএসসি, জিডি(পি)।

অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং রেডিওতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্বাধীনতার তাৎপর্য তুলে ধরতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে প্যারেড গ্রাউন্ডে বিভিন্ন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের ছবিও প্রদর্শিত হয়।

কুচকাওয়াজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে গণপূর্ত অধিদপ্তর, পিডিবি, ঢাকা ওয়াসা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, টিএন্ডটি, ডেসকো, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, পিডব্লিউডি এবং স্থাপত্য অধিদপ্তরের সহযোগিতাকে প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করা হয়।

দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে এই আয়োজনকে ঘিরে মানুষের মধ্যে নতুন করে স্বাধীনতার চেতনা জাগ্রত হয়েছে এবং জাতীয় ঐক্য ও গৌরবের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে অনুষ্ঠানের মূল্যায়ন করা হচ্ছে।


সম্পর্কিত নিউজ