{{ news.section.title }}
এবার তেল নিতে লাগবে কিউআর ডিজিটাল ‘ফুয়েল পাস’
দেশে জ্বালানি বিক্রিতে শৃঙ্খলা আনতে এবং অপ্রয়োজনীয় চাপ কমাতে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে সরকার। অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা ঠেকানো, ফিলিং স্টেশনে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল ‘ফুয়েল পাস’ চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে চলতি মাস থেকেই মোটরসাইকেলের জন্য এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি নিবন্ধিত যানবাহনের জন্য আলাদা একটি কিউআর কোড তৈরি করা হবে, যা একটি মোবাইল অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ব্যবহারকারীকে আগে নিজের পরিচয় ও যানবাহনের তথ্য দিয়ে অ্যাপে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নেওয়ার সময় পাম্পকর্মী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সেই কোড স্ক্যান করবেন। স্ক্যানের সঙ্গে সঙ্গেই সিস্টেমে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের জ্বালানি নেওয়ার তথ্য সংরক্ষিত ও হালনাগাদ হবে।
সরকারের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ সীমিত করা। একই সঙ্গে ফিলিং স্টেশনগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড় কমানো এবং যেকোনো অস্থির পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর রাখা। ডিজিটাল ফুয়েল পাসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো যানবাহন কতটুকু জ্বালানি নিতে পারবে, সেটিও নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ নির্ধারিত সীমা পূরণ হয়ে গেলে পরবর্তী নির্ধারিত সময়ের আগে আর জ্বালানি নেওয়া যাবে না।
প্রথম পর্যায়ে মোটরসাইকেলকে অন্তর্ভুক্ত করার কারণও স্পষ্ট। পেট্রোল ও অকটেনের বড় একটি অংশ ব্যবহৃত হয় এই যানবাহনে, আর ফিলিং স্টেশনগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড়ও তৈরি হয় মোটরসাইকেলকে ঘিরে। ফলে সীমিত পরিসরে এই অংশ দিয়ে শুরু করলে পুরো ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা সহজ হবে। একই সঙ্গে দ্রুত সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপও কমানো যাবে। রেজিস্ট্রেশনবিহীন যানবাহন এই ব্যবস্থার বাইরে থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর আগে এর প্রাথমিক রূপ হিসেবে কয়েকটি জেলায় ম্যানুয়াল ফুয়েল কার্ড চালু করা হয়েছে। সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, চুয়াডাঙ্গা ও সিরাজগঞ্জে পেট্রোল ও অকটেন সংগ্রহের ক্ষেত্রে এই কার্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব কার্ডে চালকের পরিচয়, যানবাহনের তথ্য এবং নেওয়া জ্বালানির পরিমাণ নথিভুক্ত করা হচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগ বলছে, পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগ সফল হলে ধীরে ধীরে এটি দেশের সামগ্রিক জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যতে শিল্প ও কৃষিখাতেও একই ধরনের নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে চলমান সেচ মৌসুমে কৃষিখাতের জ্বালানি চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে।
ফলে মোটরসাইকেল বা গাড়ির মালিকদের জন্য নতুন বাস্তবতা হবে-আগে অ্যাপে নিবন্ধন, তারপর কিউআর কোডের মাধ্যমে জ্বালানি সংগ্রহ। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত তেল কেনা নিয়ন্ত্রণে আসবে, অন্যদিকে ফিলিং স্টেশনগুলোতেও দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।