{{ news.section.title }}
দেশের একমাত্র জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি’ সাময়িক বন্ধের শঙ্কা!
হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চালানের কারণে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি কাঁচামাল সংকটে পড়েছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সাময়িকভাবে শোধনাগারটির কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি ক্রুড অয়েলের চালান আটকে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল পরিশোধ করে। এই শোধনাগার থেকে বছরে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল উৎপাদিত হয়।
তবে চলমান সংকটে শোধনাগারটির কাঁচামালের মজুত দ্রুত কমে এসেছে। মার্চের শেষ দিকে মজুত নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩০ হাজার মেট্রিক টনে, যা দিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় এক সপ্তাহের বেশি উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র মুনীর হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে কাঁচামালের ঘাটতি তৈরি হবে এবং প্রায় ১০ থেকে ১২ দিনের একটি গ্যাপ দেখা দিতে পারে।
তিনি বলেন, বিকল্প রুটে অপরিশোধিত তেল আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাহাজ পৌঁছানোর পর গভীর সমুদ্র থেকে খালাস এবং শোধনাগারে সরবরাহ করতে কিছুটা সময় লাগবে। একই উৎস থেকে তেল এলেও ভিন্ন বন্দর ব্যবহার করতে হওয়ায় অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে।
তবে জ্বালানি বিভাগ আশ্বস্ত করেছে, দেশে তাৎক্ষণিকভাবে তেলের কোনো সংকট তৈরি হবে না। কারণ, ডিজেল, অকটেনসহ পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি অব্যাহত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইস্টার্ন রিফাইনারি দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার তুলনায় তুলনামূলক কম অংশ পূরণ করে। বুয়েটের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেনের মতে, এই শোধনাগার মোট চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ সরবরাহ করে। ফলে এটি বন্ধ হলেও সরাসরি বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, একক কোনো উৎসের ওপর নির্ভরশীলতা ঝুঁকিপূর্ণ। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পরিশোধিত তেলের আমদানির উৎস বহুমুখী করা এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু সরবরাহ নিশ্চিত করাই নয়, পাশাপাশি সাশ্রয়ী ব্যবহার ও কার্যকর জ্বালানি ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে স্পষ্ট হয়ে উঠলেও, সময়মতো বিকল্প ব্যবস্থা নিতে পারলে বড় ধরনের সংকট এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।