{{ news.section.title }}
সংসদে অন্তর্বর্তী সরকারের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে পাঁচটি বিল জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম দিনে বুধবার (৮ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিল অনুমোদন দেওয়া হয়।
অধিবেশনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করেন। বিশেষ কমিটির কোনো সুপারিশ বা সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় বিলগুলো সরাসরি কণ্ঠভোটে পাসের প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে-‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬’, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিশ (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’, ‘পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এবং ‘শেখ হাসিনা পল্লি উন্নয়ন একাডেমি, জামালপুর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’।
এর মধ্যে জামালপুরের পল্লি উন্নয়ন একাডেমি সংক্রান্ত বিলটিতে ‘শেখ হাসিনা’ নাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন’ উত্থাপনের সময় সংসদে কিছুটা বিতর্ক দেখা দেয়। বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান বিলটি পর্যালোচনার জন্য সময় চেয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিলটি হাতে পাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় না থাকায় তা বিস্তারিতভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তবে স্পিকার রুলিং দিয়ে জানান, বিল পাসের এই পর্যায়ে এসে নতুন করে আপত্তি তোলার আইনি সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তাব না দেওয়ায় বিরোধী দলের দাবি গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি জানান।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দেশে ব্যাপক জনমত তৈরি হয়েছে এবং এই আইনের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন স্থগিত করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনও আনা হয়েছে।
স্পিকারের রুলিং ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
অন্য বিলগুলোর মাধ্যমে প্রশাসনিক ও পরিবেশগত খাতে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি হিসাব নিরীক্ষা ও মৎস্য সংরক্ষণ আইন সংশোধনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়েছে। পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন সংক্রান্ত আইনে পরিবর্তন এনে জনসেবার মানোন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।