যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও কেন শেষ হয়নি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, বাংলাদেশের ওপর প্রভাব কী

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও কেন শেষ হয়নি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, বাংলাদেশের ওপর প্রভাব কী
ছবির ক্যাপশান, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও কেন শেষ হয়নি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, বাংলাদেশের ওপর প্রভাব কী

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৪০ দিনের সংঘাতের পর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে এবং ইসলামাবাদে আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। এই চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হলো হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালু করা, যেখান দিয়ে শান্তিকালে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়।

তবে প্রণালি খুলে দিলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রথমত, সংঘাতের সময় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বহু তেলবাহী জাহাজ দূরবর্তী অঞ্চলে সরে গিয়েছিল। এসব জাহাজ আবার স্বাভাবিক রুটে ফিরে আসতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে।

দ্বিতীয়ত, যেসব তেলক্ষেত্র ও উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল, সেগুলো পুনরায় চালু করা জটিল ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। ফলে সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হওয়া কঠিন।

তৃতীয়ত, যুদ্ধবিরতির সময় নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। অনেক জাহাজ মালিক এখনো ঝুঁকি নিতে অনিচ্ছুক।

বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এই পরিস্থিতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

১. আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে দেশের জ্বালানি আমদানি খরচ বৃদ্ধি পাবে, যা সরাসরি অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে
২. এলএনজি ও জ্বালানি সরবরাহে বিলম্ব হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে
৩. পরিবহন খরচ বাড়লে পণ্যের দাম বাড়তে পারে, ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যেতে পারে
৪. বৈদেশিক মুদ্রার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে, কারণ বেশি দামে জ্বালানি আমদানি করতে হবে

সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে পেতে আরও সময় লাগবে। আর এই অনিশ্চয়তার প্রভাব বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে সরাসরি অনুভূত হতে পারে।


সম্পর্কিত নিউজ